ভেনেজুয়েলার ৬ হাজার ৫০০ কোটি ব্যারেল তেলের মজুতের নিয়ন্ত্রণ নিতে দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ চুক্তিকে ‘বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল চুক্তি’ বলে উল্লেখ করেন।
ট্রাম্প জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের আলোচনার মাধ্যমে এ চুক্তি হয়েছে। বেসরকারি ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের মাধ্যমে চুক্তিটি বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।
ভেনেজুয়েলা সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চুক্তির আওতায় দেশটির ১৭টি তেলক্ষেত্র উন্নয়ন করা হবে। এতে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বেসরকারি বিনিয়োগ আসতে পারে এবং ভেনেজুয়েলা সরকার ২০৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি কর-রাজস্ব পেতে পারে।
ডেলসি রদ্রিগেজ টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, চুক্তিটি ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি ও তেলশিল্প পুনরুজ্জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার একটি বেসরকারি অপারেটরের অংশীদারত্বে নতুন একটি কোম্পানি গঠনের কথা রয়েছে। ওই কোম্পানি সংশ্লিষ্ট তেলক্ষেত্রগুলোর উন্নয়ন ও পরিচালনার দায়িত্ব নেবে। চুক্তি অনুযায়ী, তেলক্ষেত্রগুলোর উন্নয়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন কোম্পানির মোট উৎপাদনের ৫৫ শতাংশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বা অংশীদারত্ব থাকবে। এর মধ্যে মালিকানার অংশ এবং উৎপাদন খরচে তেল কেনার অধিকারও থাকবে। চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশটির কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত পুনরায় পূরণে সহায়তা হতে পারে।
তেলের দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য ট্রাম্পের ওপর চাপের মধ্যেই এ চুক্তির ঘোষণা এলো। যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বাড়ানোকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ট্রাম্পের নির্দেশে ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার প্রায় নয় মাস পর এ ঘোষণা এলো। মাদুরোকে মাদক-সন্ত্রাসবাদ ও মাদক পাচারের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করার কথা জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেলের দিকে নজর দিচ্ছে। সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল পরিবহনও উল্লেখযোগ্যভাবে ধীর হয়ে পড়েছে। সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ পেট্রোলিয়াম এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হতো।
যুক্তরাষ্ট্র এ সময় তার কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুতও ব্যবহার করেছে। আগস্টের শুরুতে দেশটির মজুত ৩০০ মিলিয়ন ব্যারেলের নিচে নেমে আসে, যা ২০২৬ সালের শুরুর দিকের তুলনায় ১০০ মিলিয়ন ব্যারেলের বেশি কম।
এএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির গড় দাম ছিল প্রতি গ্যালন প্রায় ৪ দশমিক ০৯ ডলার। গত বছরের একই সময়ে এ দাম ছিল ৩ দশমিক ২১ ডলার।
ভেনেজুয়েলার তেলশিল্প দীর্ঘদিন ধরে বিনিয়োগের ঘাটতি, অবকাঠামোগত সমস্যা ও বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার কারণে সংকটে রয়েছে। নতুন চুক্তির মাধ্যমে দেশটির তেল উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে চুক্তির বাস্তবায়ন ও তেল উৎপাদন বাড়াতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।