মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বেড়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। অঞ্চলটি থেকে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে বিশ্ববাজার। সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
সর্বশেষ লেনদেনে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের অন্যতম মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬৩ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। গ্রিনিচ মান সময় রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত লেনদেনে এ মূল্যবৃদ্ধির তথ্য পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও অপরিশোধিত তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। দেশটির বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭২ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৯৩ দশমিক ৩২ ডলারে পৌঁছেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ তেল উৎপাদনকারী অঞ্চল থেকে রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে।
সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি ধীরে ধীরে বাড়ার কিছু ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও বাজারে উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। বিশেষ করে সংঘাতের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি এবং সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহব্যবস্থা আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির কিছু লক্ষণ দেখা গেলেও সংঘাতের কারণে বাজারের অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতির পাশাপাশি অঞ্চলটি থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানির গতিপ্রকৃতির ওপর নজর রাখছেন আন্তর্জাতিক বাজারের বিনিয়োগকারীরা।
বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী দিনগুলোতে সংঘাতের বিস্তার ও সরবরাহ পরিস্থিতির পরিবর্তনই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।