মধ্যপ্রাচ্য ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলকে কোনো পরাশক্তির লড়াইয়ের ময়দান বা ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার কেন্দ্র হতে দেওয়া যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে চীন আরব দেশগুলোর সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার বেইজিংয়ে ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিক আল-সাইদের সাথে এক দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে শি জিনপিং এই কথা বলেন। ১৯৭৮ সালে দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর এটিই ছিল ওমানের কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের প্রথম চীন সফর।

আমেরিকা ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের চলমান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বিপুল পরিমাণ বেড়েছে। এই পরিস্থিতি নিরসনে বৈঠক শেষে প্রকাশিত ২০ দফার যৌথ ঘোষণায় চীন ও ওমান অবিলম্বে হরমুজ প্রণালীতে স্বাভাবিক ও নিরাপদ নৌচলাচল পুনর্প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছে।
একই সাথে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সংঘাত ছেড়ে শান্তিপূর্ণ পথ বেছে নেয়া, চলতি বছরের জুন মাসে সম্পাদিত চুক্তি মেনে চলা এবং অবিলম্বে কূটনৈতিক আলোচনা শুরুর আহ্বান জানানো হয়েছে। পরে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সংকট নিরসনে চলতি মাসেই মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক চীনা বিশেষ দূত ঝাই জুন ইরান, ওমান ও
বৈঠকে চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, “বিশ্ব এখন গভীর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। চীন নিরাপত্তা সংকট কাটাতে নিজস্ব ‘প্রজ্ঞা ও সমাধান’ দিতে ইচ্ছুক বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে ওমানের সুলতান হাইথাম বিশ্ব শান্তিতে চীনের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, উন্নয়ন এবং স্থিতিশীলতা একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কোনো দেশের সমৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন শান্তি, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা এবং আন্তর্জাতিক আইনের সঠিক প্রতিফলন।
ওমানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে একটি অগ্রাধিকারমূলক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন সুলতান। যৌথ বিবৃতিতে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের পাশাপাশি সৌরশক্তি, বায়ু বিদ্যুৎ, পাওয়ার গ্রিড এবং বিদ্যুৎ সঞ্চয়ের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দু’দেশের সহযোগিতা আরও জোরদার করার কথা বলা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স