আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরান এক কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, যেসব দেশ তেহরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে সহায়তা করবে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতের সময় তারা নিশ্চিতভাবে ‘অসুবিধার’ সম্মুখীন হবে।
রোববার (১০ মে) ইরানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়। দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আকরামি নিয়ার এই বক্তব্যটি প্রচার করা হয়েছে।
জেনারেল আকরামি নিয়া এক বিবৃতিতে দাবি করেন, ইরানকে দমানোর জন্য শত্রুপক্ষ যেসব লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল, তার একটিও অর্জিত হয়নি। চলমান সংকটের মধ্যেও ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভারসাম্য অটুট রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শত্রুদের কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হতে দেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে। সেই সময় ইরান ইসরাইল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের লক্ষ্য করে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছিল।
পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনা স্থায়ী কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় উত্তেজনা প্রশমিত হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরবর্তীতে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ছাড়াই এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি করেন, যাতে একটি স্থায়ী কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজা যায়। এই যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গত ১৩ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে ইরানি সামুদ্রিক যান চলাচলের ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করে।
গত মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেন, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখবে। তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করে দেন যে ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে বহাল থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই অনমনীয় অবস্থানের পাল্টা জবাব হিসেবেই ইরান এখন প্রণালিটি দিয়ে যাতায়াতকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রচ্ছন্ন হুমকি দিল, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং নৌ-চলাচলের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।