অপরাধ চিত্রসর্বশেষ

মিষ্টির নির্দেশেই রাড্ডায় হামলা, আত্মগোপনে ঘনিষ্ঠরা

ঢাকার মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলার ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সরাসরি জড়িত থাকার তথ্য জানা গেছে। তার নির্দেশেই ভাঙচুর ও লুটপাট চালান বিএনপিতে থাকা তার ঘনিষ্ঠ নেতাকর্মীরা।

সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

তদন্ত প্রতিবেদন বলছে, স্থানীয় আন-নূরী জামে মসজিদ সড়কে একটি সাদা মাইক্রোবাসে বসেই রাড্ডায় হামলার নির্দেশ দেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। আর তার নির্দেশ হামলাকারীদের কাছে পৌঁছে দেন মিষ্টির ঘনিষ্ঠ হানিফ মিয়া, মোস্তফা জগলুল পাশা ওরফে পাপেল, আবুল কালাম আজাদ ওরফে শুটার লেলিন। ওই সময় শাহআলী থানা শ্রমিক দলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক ইব্রাহিমসহ আরও কয়েকজন লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

এদিকে, রাড্ডাকাণ্ডে তীব্র সমালোচনার মুখে সংসদ সদস্য ও বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মিষ্টি। ঘটনার পর থেকেই গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে রয়েছেন হামলায় জড়িতরা। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বিএনপির সংশ্লিষ্ট কমিটি ও নেতাদের বিরুদ্ধেও।

স্থানীয় একাধিক সূত্র ভিওডি বাংলাকে জানায়, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের আগে রাত ১২টা ৫মিনিটে শাহআলী থানা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ ওরফে শুটার লেলিনের কার্যালয়ের সামনে লোকজন জড়ো হয়। এছাড়া বিএনপি নেতা মোহাম্মদ হানিফ মিয়ার কার্যালয়ের সামনেও জড়ো হয়েছিল হামলাকারীরা।

বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন থেকে ফিরেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও লুটপাটের ঘটনার খোঁজ নেন। এ ঘটনায় কারা জড়িত সেসব তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেন। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও তার উপদেষ্টাদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তদন্তে উঠে আসে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিসহ একাধিক বিএনপি নেতার নাম।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, যারা নানাভাবে নানা সুযোগে দলে ঢুকেছে, অথবা দল করেছে- অর্থাৎ, যারাই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে অনৈতিক ও গর্হিত কর্মকাণ্ডে যুক্ত হবে, তাদের কেউই ছাড় পাবে না।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির একাধিক নেতা ভিওডি বাংলাকে জানান, রাড্ডায় হামলার ঘটনায় শুধু মিষ্টি একা জড়িত না। তাকে সামনে রেখে পেছন থেকে মূল নির্দেশদাতা আরও দুই-একজন সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী কয়েকজন নেতা আছেন। তাদের পরিকল্পনা ছিল রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণ।

নেতা-কর্মীদের অনেকে অবশ্য বলছেন, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তার রাজনীতির ক্যারিয়ার শেষ করে দেওয়া হয়েছে। কারণ এলাকায় তার পারিবারিক প্রভাব রয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, রাড্ডাকাণ্ডে পুলিশের তদন্তে হানিফ মিয়া, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব মোস্তফা জগলুল পাশা এবং শাহআলী থানা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ লেলিনের নাম উঠে আসে। এরপরই গত বুধবার রাতে ভেঙে দেওয়া হয় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ও যুবদল কমিটি এবং পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটি।

একই সঙ্গে শাহআলী থানা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক খলিল চৌধুরী, সি-ব্লক ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য হাফিজুর রহমান শুভ্র, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আওতাধীন শাহআলী থানা যুবদলের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নূর আলম, থানা যুবদল নেতা সাজ্জাদুর রহমান মিশু, মো. সোহেল, কবির হোসেন, আকবর হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের দারুস সালাম থানার আহ্বায়ক মো. আক্তার হোসেন মামুন, সদস্যসচিব মো. হাফিজুর রহমান এবং মহানগর পশ্চিম শাখার সহ-সভাপতি সারোয়ার আলম পিয়াস, সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম, দারুসসালাম থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইকবাল দিপু, সদস্যসচিব ওমর নাঈম এবং ৯৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সদস্যসচিব শান্ত রহমানকে দলের সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে এসব নেতারা এরই মধ্যে গা-ঢাকা দিয়েছেন। এরা প্রত্যেকেই ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক মোস্তফা জগলুল পাশা পাপেলের অনুসারী বলে জানা গেছে। ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক ছিলেন।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির বহিষ্কৃত হাফিজুর রহমান শুভ্র বলেন, হামলার সময় আমি বিমানবন্দরে ছিলাম। আমার মেয়ে-জামাই সুইডেন গেছে। তাদের বিদায় দিতে গিয়েছিলাম। সবসময় সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়েই ছিলাম। তবে হামলার সময় সেখানে ছিলাম না।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্র জানায়, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় মিষ্টিসহ জড়িতদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রধান আসামি স্থানীয় বিএনপি নেতা মোহাম্মদ হানিফ মিয়াসহ এ পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতির অফিস সহকারী শাহাদাত হোসেন, কাজী মকবুল হোসেন, সমিতির সম্পাদক শাহ আলম, সমিতির সদস্য আতিকুর রহমান ও কামরুল ইসলাম, শাকিল, মিন্টু ও মিলন, শাহআলী থানা বিএনপির সদস্য সাইফুল ইসলাম খোকন, শাহআলী থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সভাপতি আলম এবং ভেকু বহনকারী গাড়ির চালক শহীদুল ইসলাম রয়েছেন।

সবশেষ, বৃহস্পতিবার রাতে শাহআলীর গুদারাঘাট এলাকা থেকে শুটার লেলিনের অন্যতম সহযোগী নুর আলমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ, মোবাইল ফোন-সংক্রান্ত তথ্য এবং স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য মিলিয়ে হামলায় অংশ নেওয়া ও নির্দেশনা দেওয়া বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সাম্প্রতিক সংবাদ

জামিন আবেদন খারিজ, কারাগারে আখতারুজ্জামান

Newsdesk

চীনের একক আধিপত্য শেষ হলো এশিয়ান গেমস

Newsdesk

তিন ডিআইজিসহ ২৪ পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি

Newsdesk