আন্তর্জাতিক

যুদ্ধ বন্ধে চুক্তির দ্বারপ্রান্তে ইরান-আমেরিকা, খুলছে হরমুজ প্রণালী

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত করতে ওয়াশিংটনের দেয়া একটি নতুন প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে তেহরান। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি বা প্রক্সি মিলিশিয়াদের মতো জটিল বিষয়গুলো আপাতত ভবিষ্যতের আলোচনার জন্য তুলে রেখে একটি এক পাতার ‘সমঝোতা স্মারক’ সইয়ের মাধ্যমে যুদ্ধ থামানোর পথে এগোচ্ছে দুই পক্ষ।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, তেহরান খুব শীঘ্রই পাকিস্তানের মাধ্যমে তাদের চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া জানাবে। উল্লেখ্য, পাকিস্তান এই যুদ্ধের একমাত্র শান্তি আলোচনার আয়োজক ছিল এবং বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। সূত্রমতে, ১৪ দফার একটি প্রস্তাবিত খসড়া নিয়ে আলোচনা চলছে যা সফল হলে ৩০ দিনের একটি বিস্তারিত আলোচনার সময়সীমা শুরু হবে।


তেল বাজারে ধস ও বিশ্ব অর্থনীতি: 
সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্ববাজারে তেলের দামে ধস নেমেছে। ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম এক ধাক্কায় ১১ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল প্রায় ৯৮ ডলারে নেমে এসেছে। একই সাথে বৈশ্বিক শেয়ার বাজারের সূচক উর্ধ্বমুখী হয়েছে এবং বন্ডের মুনাফা কমেছে, যা জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের আশাবাদকেই ফুটিয়ে তুলছে।

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানিয়েছেন, ইরান যদি ইতিমধ্যে একমত হওয়া শর্তগুলো মেনে নেয়, তবে নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া হবে এবং হরমুজ প্রণালী সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। তবে, তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি তারা সম্মত না হয়, তবে পুনরায় বোমাবর্ষণ শুরু হবে এবং তার তীব্রতা আগের চেয়ে অনেক বেশি হবে। শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির দোহাই দিয়ে ট্রাম্প এরমধ্যেই হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য শুরু করা ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামক নৌ-মিশনটি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন।


চুক্তির শর্ত ও অমিমাংসিত বিষয়: 
প্রাথমিক চুক্তিতে আমেরিকা ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও জব্দ করা অর্থ ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। বিনিময়ে ইরানকেও হরমুজ প্রণালী থেকে অবরোধ তুলে নিতে হবে এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে লাগাম টানতে হবে।

তবে এই সংক্ষিপ্ত প্রস্তাবে ইরানের মিসাইল প্রোগ্রাম বা মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর বিষয়ে কোনো উল্লেখ নেই, যা আগে ওয়াশিংটনের প্রধান দাবি ছিল। অন্যদিকে, ইরানের ৪০০ কেজির বেশি উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে এই প্রস্তাবে কী বলা হয়েছে, তা এখনও অস্পষ্ট।

ইরান ও চীনের অবস্থান: ইরানের আইনপ্রণেতারা এই প্রস্তাবকে ‘আমেরিকার ইচ্ছার তালিকা’ বলে অভিহিত করেছেন। বর্তমানে চীন সফরে থাকা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সরাসরি ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাব না দিলেও জানিয়েছেন, তেহরান একটি ‘ন্যায়সঙ্গত ও ব্যাপক’ চুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।


প্রণালীতে অস্থিরতা ও ক্ষয়ক্ষতি: 
যদিও শান্তি আলোচনা চলছে, হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা কমেনি। গত মঙ্গলবারও ফরাসি একটি মালবাহী জাহাজে হামলা হয়েছে, যার ফলে আহত কর্মীদের সরিয়ে নিতে হয়েছে। ট্রাম্পের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ মিশনটি মূলত হরমুজ প্রণালীতে ইরানের হামলা ও ড্রোন আক্রমণ বেড়ে যাওয়ার কারণেই বাধার মুখে পড়েছিল।

সামগ্রিকভাবে, আমেরিকা ও ইরান এখন একটি ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের পাঠানো প্রতিক্রিয়া নির্ধারণ করবে মধ্যপ্রাচ্য কি শান্তির পথে হাঁটবে নাকি আরও ভয়াবহ কোনো সংঘাতের মুখোমুখি হবে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স ও অ্যাক্সিওস

সাম্প্রতিক সংবাদ

ভোটে হেরেও পদত্যাগে মমতার অস্বীকৃতি, কী বলছে ভারতের সংবিধান

Newsdesk

পাল্টাপাল্টি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করল রাশিয়া ও ইউক্রেন

Newsdesk

চীনে আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত ২১, আহত ৬

Newsdesk