পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আবারও তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনার ঝড়। একদিকে ব্রিগেড ময়দানে বিজেপি সরকারের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে, অন্যদিকে কলকাতার কালীঘাটে নিজের বাসভবন চত্বরে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন করতে যাচ্ছেন সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শনিবার (৯ মে) একই দিনে দুই ভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে রাজ্যজুড়ে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই দুই কর্মসূচি শুধুমাত্র সময়ের মিল নয়, বরং এর মধ্য দিয়ে রাজ্যের ক্ষমতার সমীকরণ এবং রাজনৈতিক বার্তার একটি নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারীর শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিজেপি শিবিরে উৎসবের আমেজ থাকলেও তৃণমূল শিবির নিজেদের সাংগঠনিক ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির মাধ্যমে শক্ত অবস্থান জানান দিতে চাইছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ির চত্বরে অনুষ্ঠিতব্য রবীন্দ্রজয়ন্তী অনুষ্ঠানকে বিশেষভাবে দেখা হচ্ছে। কারণ, বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর এটিই তার প্রথম বড় ধরনের আনুষ্ঠানিক উপস্থিতি। যদিও এটি একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এর মধ্যেও রয়েছে সুস্পষ্ট বার্তা।
এই অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশনের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে সাবেক মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন এবং সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়কে। যদিও আয়োজনটি তুলনামূলকভাবে ছোট পরিসরে হচ্ছে, তবুও রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এর তাৎপর্য অনেক বেশি বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে তিনটি অরাজনৈতিক সংগঠন রবীন্দ্রজয়ন্তী পালনের অনুমতি চাইলেও পুলিশ তা দেয়নি। এই অভিযোগকে ঘিরেও নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, যেখানে সম্ভব সেখানেই রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন করতে হবে। তবে ক্ষমতায় না থাকায় আগের মতো বড় আকারে অনুষ্ঠান আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে স্বীকার করেছেন অনেক স্থানীয় নেতা।
সূত্র : আনন্দবাজার