সৌদি আরবে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের পাঁচজনসহ মোট আটজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তিরা সবাই মিয়ানমারের রোহিঙ্গা বংশোদ্ভূত।
টেকনাফের হ্নীলা এলাকার নিহতদের পরিচিতজনরা জানান, নিহত ব্যক্তিদের অনেকেরই জন্ম ও বেড়ে ওঠা সৌদি আরবে। তাদের মধ্যে জিয়াউর রহমান নামের এক ব্যক্তি নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশ থেকে প্রথমে পাকিস্তান এবং সেখান থেকে সৌদি আরবে যান। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি সপরিবারে সৌদিতে বসবাস করে আসছিলেন।
বাংলাদেশ সময় গত শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক দুইটার দিকে মদিনা থেকে জেদ্দা যাওয়ার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে। পরদিন শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে জেদ্দায় নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান।
সৌদি আরবের বাংলাদেশ কনস্যুলেটের প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৬ নভেম্বর দিবাগত রাত দুইটার দিকে মদিনা থেকে জেদ্দায় ফেরার পথে সৌদি আরবের আল-হিমনা এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। তিনটি পরিবারের ১৩ জন সদস্য একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে যাওয়ার সময় সেটি দ্রুতগতিতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়।
জেদ্দায় অবস্থিত ‘আল আবীর কোল্ড স্টোর ট্রেডিং কোম্পানি’র কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা গাড়িটিতে করে মদিনা থেকে জেদ্দায় ফিরছিলেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে ও হাসপাতালে নেওয়ার পথে প্রথমে সাতজনের মৃত্যু হয় এবং ছয়জন আহত হন। পরবর্তীতে গত শনিবার রাতে মদিনা অঞ্চলের আল-হিমনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আল আবীর কোল্ড স্টোরের স্টোরকিপার জিয়াউর রহমানের মেয়ে ইশরাহ মারা যান। এর ফলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে আটজনে দাঁড়ায়।
দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিরা হলেন—আল আবীর কোল্ড স্টোরের স্টোরকিপার জিয়াউর রহমান, তাঁর দুই ছেলে ইয়াছের ও ইয়াজের এবং দুই মেয়ে বুশরাহ ও ইশরাহ। একই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ওই প্রতিষ্ঠানের ফর্কলিফট চালক মোহাম্মদ ইলিয়াসের স্ত্রী মুন্নী। এ ছাড়া নিহতদের তালিকায় রয়েছেন সানজিদা আক্তার ও তার দুই মাস বয়সী কন্যাসন্তান।