আইন-আদালতসর্বশেষ

হাদি হত্যা মামলার শুনানি আজ, দ্রুত বিচার দাবি ইনকিলাব মঞ্চের

ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা ও মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের শুনানি আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর)। গত ২৭ সেপ্টেম্বরের পর ৩৭ দিন পর মামলাটি আবারও আদালতে উঠছে।

মামলাটির তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আজ নির্ধারিত দিনে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।

এদিকে হাদি হত্যার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সরকারকে আগামী ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচার নিশ্চিত না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য থাকলেও তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি। পরে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত ৩ নভেম্বর নতুন দিন ধার্য করেন। এর আগে ২০ আগস্টও প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারিত ছিল।

আদালত সূত্র ও মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা এ নিয়ে প্রায় ২০ বার পিছিয়েছে।

যেভাবে মামলার তদন্ত এগিয়েছে
মামলাটির তদন্ত প্রথমে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) করে। গত ৬ জানুয়ারি ডিবির তদন্ত কর্মকর্তা ১৭ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে ফয়সাল করিম মাসুদকে প্রধান আসামি করা হয়।

তবে ওই অভিযোগপত্রে সন্তুষ্ট না হয়ে মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের তৎকালীন সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ১৫ জানুয়ারি আদালতে নারাজি আবেদন করেন। আদালত আবেদন গ্রহণ করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। এরপর তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি।

ডিবির অভিযোগপত্রে বলা হয়েছিল, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে হাদিকে হত্যা করা হয়। পাশাপাশি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করা এবং ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরির বিষয়টিও হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

সিআইডির তদন্ত চলাকালে মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ফয়সাল রুবেল আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে দুই দফায় মোট ১২ দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনা
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনি প্রচারণা শেষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাচ্ছিলেন শরিফ ওসমান হাদি। দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট এলাকায় তার অটোরিকশা পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়।

গুরুতর আহত হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর পল্টন মডেল থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন আবদুল্লাহ আল জাবের। হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

দ্রুত বিচারের দাবিতে কর্মসূচি
হাদি হত্যার দ্রুত বিচারের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে ইনকিলাব মঞ্চ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, আগামী ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচার না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

সংগঠনটির নেতাকর্মীরা বর্তমানে খাগড়াছড়িতে অবস্থান করছেন। মঙ্গলবার হেয়াকো বাসস্ট্যান্ড, রামগড় ও মাটিরাঙ্গা হয়ে খাগড়াছড়ির হাদি চত্বরে কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে।

আজকের শুনানিতে সিআইডি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারে কি না, নাকি তদন্তের অগ্রগতি জানিয়ে আরও সময় চাইবে—সেদিকেই নজর রয়েছে। প্রতিবেদন দাখিল হলে আদালত পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ধারণ করবেন। আর প্রতিবেদন জমা না পড়লে তদন্তের জন্য নতুন সময় দেওয়া হতে পারে।

সাম্প্রতিক সংবাদ

‘আপত্তিকর মন্তব্যে’ নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আইনি নোটিশ

Newsdesk

বিক্রি হবে শেখ হাসিনার সম্পত্তি, অর্ধেক অর্থ পাবে গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবার

Newsdesk

সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই, তবু ক্ষমতায় নেতানিয়াহু—কীভাবে?

Newsdesk