টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের ঘটনায় উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী (গ্রেড-১) মো. বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাকে বাসাইল থেকে বান্দরবান জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে বদলি করা হয়।
অফিস আদেশ অনুযায়ী, কাজী ফাত্তাউর রহমানকে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবমুক্ত না হলে ২৭ সেপ্টেম্বর অপরাহ্নে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বা স্ট্যান্ড রিলিজ হিসেবে গণ্য করা হবে। একই সঙ্গে ৬ষ্ঠ গ্রেডভুক্ত উপজেলা প্রকৌশলী পদায়ন না হওয়া পর্যন্ত তাকে আর্থিক ক্ষমতাসহ উপজেলা প্রকৌশলীর অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
কাজী ফাত্তাউর রহমান তার স্ট্যান্ড রিলিজের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে সেতুটিতে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর তদন্ত শুরু হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে টাঙ্গাইল জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন ও বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সেতুটিতে অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদক টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. বিপ্লব হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিংয়ের পিলার পরীক্ষা করা হয়।
দুদকের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে স্ল্যাব ও রেলিংয়ের পিলারে প্রয়োজনের তুলনায় কম রড থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে বাঁশ ব্যবহারের অংশটি সরেজমিনে পাওয়া যায়নি বলে জানান দুদকের কর্মকর্তা। বিষয়টি বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদনের পর আরও যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বাদী হয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় ঠিকাদার এসএম জাহাঙ্গীর আলমকে প্রধান আসামি এবং সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে অপর আসামি করা হয়েছে। পরে শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।