দেশের ১৮ কোটি মানুষের দাবি আদায়ের লক্ষ্যেই ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট দলের দাবি নয়; জনগণের প্রয়োজন ও অধিকার আদায়ের আন্দোলন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা-রংপুর লংমার্চের অংশ হিসেবে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস এলাকায় ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
পথসভায় গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট দূর করা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, দলীয়করণ বন্ধ এবং দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের ঘরে ঘরে গ্যাস ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধসহ নানা দাবিতে তাদের এই কর্মসূচি। তাদের ভাষ্য, দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থেই লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে।
গণভোট প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, তাদের দাবি অনুযায়ী, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছিল। কিন্তু সরকার সেই রায় উপেক্ষা করেছে। জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়ন করতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে একাধিক দাবি সামনে রেখে কর্মসূচি পালন করা হলেও জনগণের প্রয়োজন বিবেচনায় এসব দাবি ভবিষ্যতে এক দফায় পরিণত হতে পারে।
পথসভায় বিএনপির নেতৃত্বাধীন রাজনীতির বাইরে থাকা ১১ দলীয় জোটের অন্যতম নেতা কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রমও বক্তব্য দেন। তিনি সুশাসন প্রতিষ্ঠা, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিত্যপণ্যের দাম রাখার দাবি জানান।
তিনি বলেন, সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে তাদের আন্দোলন এক দফায় রূপ নিতে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেই এক দফা হবে সরকারের পদত্যাগের দাবি।
খেলাফত মজলিসের নেতা আল্লামা মামুনুল হক বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বাইরে সরকারের সামনে অন্য কোনো পথ নেই। পাশাপাশি গুম-খুনের ঘটনায় নিহতদের বিচার এবং তিস্তা ব্যারেজ ও তিস্তা নদীসংক্রান্ত বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে বলে তারা মনে করেন। তিস্তাপাড়ের মানুষের স্বার্থে দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিও জানান তিনি।
পথসভায় মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সরকার যাতে স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে না পারে এবং দুর্নীতি, লুটপাট ও সম্পদ পাচারের সুযোগ না পায়, সে লক্ষ্যেই তাদের রাজনৈতিক আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
লংমার্চের পথসভা থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকটের সমাধান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ করা।
গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে পথসভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সঞ্চালনা করেন মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি আ স ম ফারুক।
পথসভা শেষে লংমার্চের বহর রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা অব্যাহত রাখে। কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
এ সময় ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির, ঢাকা উত্তর অঞ্চলের পরিচালক আব্দুর রব, লেবার পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান এস এম ইউসুফ আলী, গাজীপুর জেলা জামায়াতের আমির ড. জাহাঙ্গীর আলম, গাজীপুর সিটি মেয়র পদপ্রার্থী ড. হাফিজুর রহমান, নায়েবে আমির মো. খায়রুল হাসান, এনসিপি নেতা আলী নাসের খান, সাবেক সচিব শাহ আলম বখশী এবং খেলাফত মজলিসের জেলা সহ-সভাপতি মুফতি ফারুক আহমেদ রোমানীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।