নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় দলবদ্ধ ধর্ষণে এক স্কুলছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বিএনপি নেতাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পর আবু মিয়াকে (৩৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে প্রধান আসামি কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক বকুল মিয়া পলাতক।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম আজ বৃহস্পতিবার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিরা পলাতক, বিএনপি নেতাও। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে কেন্দুয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি করেন।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভুক্তভোগী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর বিএনপি নেতা বকুল মিয়া তাকে একটি বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের ঘটনা মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখা হয়। পরে ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে বকুল মিয়ার সহযোগী এক নারী ওই ছাত্রীকে একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। সেখানে বকুলের নেতৃত্বে একাধিক ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত একাধিকবার ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
পরিবারের দাবি, গত ১ আগস্ট ওই ছাত্রীর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে। পরে ১৮ আগস্ট একটি বেসরকারি ক্লিনিকে পরীক্ষা করানো হলে চিকিৎসকরা তাকে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানান।
অভিযোগের বিষয়ে কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ঘটনা আমরা জেনেছি। বকুল মিয়ার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।