নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অতিরিক্ত সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া সামসুল আলম স্বপদে বহাল থাকলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না বলে দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তবে তাকে না সরালে নির্বাচন বর্জন করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে দলটি জানিয়েছে, ভোট বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো সময় এখনো আসেনি।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।
তিনি জানান, জাতীয় নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্য থাকলেও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো জোটগত প্রার্থী দেওয়া হবে না; দলগুলো এককভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এই লক্ষ্যেই স্থানীয় শাখাগুলোকে প্রাক-প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এদিন ইসির সঙ্গে বৈঠকে ৯ দফা দাবি তুলে ধরে জামায়াত। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, মাসখানেক আগেও একই দাবি পেশ করা হয়েছিলো, কিন্তু ইসির সাড়া না পাওয়ায় আমরা আবারও বৈঠকে বসেছি।
বৈঠকে উত্থাপিত মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
ইসির বর্তমান অতিরিক্ত সচিব সামসুল আলম বিএনপিতে পদধারী বলে দাবি করে জামায়াত তাকে সরানোর আহ্বান জানিয়েছে। যদিও ইসি উল্লেখ করেছে, নিয়োগটি সরকারের এখতিয়ারভুক্ত।
বিএনপি থেকে যেসব নেতা বর্তমানে স্থানীয় সরকারের প্রশাসক পদে দায়িত্ব পালন করছেন, তারা যেন নির্বাচন শুরুর তফসিল ঘোষণার পর পদত্যাগ করলেও প্রার্থী হতে না পারেন। কারণ হিসেবে বলা হয়, এতোদিন দায়িত্বে থেকে তারা নির্বাচনের মাঠ নিজেদের অনুকূলে সাজিয়েছেন।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না—ইসির এই সুপারিশ বাতিলের দাবি জানানো হয়।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের নেতারা যেন কোনোভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন এবং মন্ত্রী-এমপিরা যেন নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে না পারেন তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়।
রাজনৈতিক দলগুলোর মতে, আগামী নভেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যে ইসিকে নিরপেক্ষ থাকার তাগিদ দিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াত এখনো নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থাশীল।