আন্তর্জাতিকসর্বশেষ

কোনো চাপের মুখেই মাথা নত করবে না ইরান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেয়া ভাষণে কঠোর প্রত্যয় ও সার্বভৌমত্বের বার্তা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের দিনের বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়ে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, নিষেধাজ্ঞা, রাজনৈতিক চাপ কিংবা সামরিক হুমকি সত্ত্বেও ইরান কখনো কারো কাছে মাথা নত করবে না বা হাঁটু গেড়ে বশ্যতা স্বীকার করবে না।

ক্ষমতার জোর দিয়ে বিশ্বকে পরিচালিত করার নীতি বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শক্তি দিয়ে রাজত্ব চালানোর পৃথিবী কখনোই নিরাপদ হতে পারে না এবং সামরিক শক্তি দিয়ে বৈধতার বিকল্প তৈরি করা গ্রহণযোগ্য নয়। পেজেশকিয়ান যখন বক্তব্য শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের খতিয়ান তুলে ধরছিলেন, তখন অধিবেশনে উপস্থিত একমাত্র মার্কিন প্রতিনিধি কক্ষ ত্যাগ করে চলে যান।

UN Iran 04
ভাষণের শুরুতেই গত ফেব্রুয়ারি মাসে দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাভ শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১২০ জন শিশু ও ২৬ জন শিক্ষকসহ মোট ১৫৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা স্মরণে আনেন পেজেশকিয়ান।

নিহত নিরপরাধ শিশুদের ছবি উঁচিয়ে ধরে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিলেও প্রকৃতপক্ষে ইরান নিজেই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন ও সমরাস্ত্রে পরিচালিত সন্ত্রাসবাদের শিকার। ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে সাধারণ ও দরিদ্র মানুষের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ইরান কখনো বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা চালায়নি, বরং মার্কিন হামলায় তাদের বিশ্ববিদ্যালয়, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও বিদ্যালয়গুলো ধ্বংস হয়েছে। গাজা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বিশ্ব সম্প্রদায়ের ব্যর্থতাকে তীব্র সমালোচনা করেন এবং ইসরাইলের অঘোষিত পারমাণবিক অস্ত্রাগারের সঙ্গে ইরানের ওপর চাপানো কঠোর তদারকির বৈষম্য তুলে ধরেন।

UN Iran 03
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালী নিয়েও সুনির্দিষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট। তিনি সোজা জানিয়ে দেন যে, ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টা করছে না, তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও কৃষির মতো জনকল্যাণমূলক কাজে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের যে নিজস্ব অধিকার ইরানের রয়েছে, তা থেকে কোনোভাবেই পিছু হটবে না।

প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য উল্লেখ করে তিনি জানান, ইরানি শহরগুলোতে বোমা হামলা চালিয়ে কেউ যেন পার না পায়, তা নিশ্চিত করতেই এই শক্তি অর্জন। একই সাথে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী প্রসঙ্গে পেজেশকিয়ান বলেন, যে জলপথ ব্যবহার করে একটি গোষ্ঠী তাদের স্বার্থ উদ্ধার করবে এবং তা দিয়েই ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও আগ্রাসন চাপিয়ে দেবে, তা বরদাশত করা হবে না। দুর্বলতা থেকে নয়, বরং নিজস্ব শক্তিতে বলীয়ান হয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশ্ববাসীকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা-সিএনএন

সাম্প্রতিক সংবাদ

ফিলিস্তিনকে ১০০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দিবে কানাডা

Newsdesk

এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর আত্মহত্যা: মামা ওবায়দুর কারাগারে

Newsdesk

জাতিসংঘের মঞ্চে ট্রাম্পের অসত্য ও অতিরঞ্জিত বয়ান!

Newsdesk