কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে গভীর নলকূপ খনন করতে গিয়ে মাটির নিচ থেকে গ্যাস বের হওয়ার পর আগুন লাগার ঘটনায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। দুর্ঘটনার আশঙ্কা বিবেচনায় ঘটনাস্থলের চারপাশে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগুনের উৎস থেকে ২০০ মিটার পর্যন্ত এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচল ও অবস্থানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এ ঘটনায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করেন উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পান্না আক্তার। তাঁর স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ অক্টোবর সকাল ৭টার দিকে উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইনানী ছোট খাল ব্রিজসংলগ্ন একটি বাড়িতে গভীর নলকূপ বসানোর কাজ চলছিল। খননকাজের একপর্যায়ে মাটির প্রায় এক হাজার ফুট নিচে পাইপ প্রবেশ করানোর সময় গ্যাস বের হতে শুরু করে। পরে সেখানে আগুন জ্বলে ওঠে।
খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। মাটির নিচে গ্যাসের সম্ভাব্য উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ শুরু করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম অনুসন্ধান ও উৎপাদন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) একটি কারিগরি দল। তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ দেয়। তবে সেখানে কী পরিমাণ গ্যাস রয়েছে, সে বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত তথ্য জানানো হয়নি।
এ পরিস্থিতিতে ঝুঁকি মোকাবিলা এবং আশপাশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আগুনের উৎপত্তিস্থল এবং পার্শ্ববর্তী এলাকাকে কয়েকটি নিরাপত্তা অঞ্চলে ভাগ করে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনাস্থল ও আশপাশে আগুন জ্বালানো, ধূমপান, দিয়াশলাই কিংবা লাইটার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি আগুনের উৎসের ২০০ মিটারের মধ্যে সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও অবস্থান বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জনসাধারণকে নির্ধারিত নিরাপত্তাবিধি মেনে চলতে হবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ করলে বা নিষিদ্ধ কার্যক্রমে জড়িত হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।