খেলাসর্বশেষ

মিরপুরে ব্যাকফুটে বাংলাদেশ, প্রতিরোধে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

টেস্টের প্রথম দুই দিনেই যেন ঘূর্ণিবলে ব্যাকফুটে ব্যাটাররা! মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পিচে স্পিন এতটাই চালকের আসনে বসেছে যে এখন পর্যন্ত পড়ে যাওয়া ১৪টি উইকেটের মধ্যে ১০টিই গেছে স্পিনারদের ঝুলিতে।

ম্যাচের এমন অবস্থা দেখে নিশ্চিতভাবেই ধরে নেওয়া যায়, বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার চলতি টেস্ট সিরিজের ভাগ্য নির্ধারণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে চলেছে ঘূর্ণি স্পিনই।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিক্যান প্রথম দিনেই যে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, দ্বিতীয় দিনে নিজের ঘূর্ণিজাদুতে তা অক্ষরে অক্ষরে সত্যি করে দেখালেন। তাঁর ক্যারিয়ার সেরা ৫৩ রানে ৫ উইকেটের দুর্ধর্ষ স্পেলে চালকের আসনে বসে ক্যারিবীয়রা।

৩ উইকেটে ২১৩ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন খেলা শুরু করা বাংলাদেশ প্রথম সেশনের ধাক্কায় তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে মাত্র ২৭৩ রানেই অলআউট হয়ে যায়! জবাবে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজও অবশ্য খুব একটা স্বস্তিতে ছিল না। দারুণ শুরুর পর তড়িঘড়ি ৩ উইকেট হারিয়ে দিন শেষে ১৩৪ রানে ৪ উইকেট তুলে স্পিন রোমাঞ্চ বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণে।

অবশ্য মিরপুরের উইকেট এখনো একদম ‘মাইনফিল্ড’ হয়ে ওঠেনি, যেখানে ব্যাটিং করা অসম্ভব। তবে দুই দিনের খেলায় খারাপ আলো এবং বৃষ্টির কারণে ব্যাটারদের মনোযোগের ব্যাঘাত ঘটেছে। দুই দলের এই ব্যাটিং ধ্বসের পেছনে পিচের চেয়েও বেশি দায়ী ছিল স্পিন সামলানোর ক্ষেত্রে ব্যাটারদের মানসিক দৈন্য। ক্যারিবীয় স্পিন জুটি- অভিজ্ঞ ওয়ারিক্যান ও উদীয়মান জশুয়া বিশপ চমৎকার অফ-স্ট্যাম্প লাইন ধরে বল করে বাংলাদেশি ব্যাটারদের ড্রাইভ খেলতে প্রলুব্ধ করেন।

Dhaka Test 01
সেঞ্চুরিয়ান সাদমান ইসলাম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর এলবিডব্লিউ এবং আক্রমণাত্মক তৌহিদ হৃদয়ের উইকেটটি ছিল বৈচিত্র্যময় লেংথের চমৎকার প্রতিফলন। বিশেষ করে মেহেদী হাসান মিরাজকে যেভাবে ব্যাটে-বলে ফাঁকি দিয়ে বোল্ড করলেন ওয়ারিক্যান, তা ছিল এক কথায় দুর্দান্ত।

অন্যদিকে বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণের অভিজ্ঞতা ক্যারিবীয়দের চেয়ে ঢের বেশি হলেও জন ক্যাম্পবেল ও ত্যাগনারায়ণ চন্দ্রপলের ওপেনিং জুটির বিরুদ্ধে মেহিদী ও তাইজুল ইসলামদের বেশ ধৈর্য ধরতে দেখা গেছে। স্পিন সামলে নিজের ষষ্ঠ হাফ-সেঞ্চুরি পূরণ করা ক্যারিবীয় ওপেনার জন ক্যাম্পবেল ম্যাচ শেষে জানান, স্বাগতিক স্পিনাররা যত সময় পার হয়েছে তত বেশি স্পিডে বল ছুড়েছেন, যা ধীরগতির পেসের চেয়ে খেলা অপেক্ষাকৃত সহজ ছিল।

সেঞ্চুরিয়ান শাদমান ইসলামও স্বীকার করে নেন, প্রথম দিন শেষে পাওয়া সুবিধাজনক অবস্থান বাংলাদেশ দ্বিতীয় দিন সকালে হাতছাড়া করেছে এবং ব্যাটারদের ভুল সিদ্ধান্তের ফলেই অন্তত ৪০-৫০ রান কম হয়েছে।

বৃষ্টি ও খারাপ আলোর কারণে শেষ বিকেলে খেলায় বারবার বিঘ্ন ঘটলেও সফরকারীদের এখনো ১৩৮ রানে পিছিয়ে রেখে ম্যাচে টানটান উত্তেজনা বজায় রেখেছে বাংলাদেশ।

ঢাকা টেস্ট পার হয়ে সিলেটের উইকেটগুলোতেও স্পিনের এমন রাজত্ব বজায় থাকবে বলেই আভাস মিলছে। শেষ পর্যন্ত যে দল প্রতিপক্ষের চতুর স্পিনকে সবচেয়ে ভালো সামলাতে পারবে, তাঁদের হাতেই উঠবে এই রোমাঞ্চকর টেস্ট সিরিজের ট্রফি।

সাম্প্রতিক সংবাদ

নভেম্বর মাসে অপরিবর্তিত থাকছে জ্বালানি তেলের দাম

Newsdesk

সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, ইতালির ৪ সেনা নিহত

Newsdesk

ইনানীতে নলকূপ খননের স্থানে গ্যাসের আগুন, ১৪৪ ধারা জারি

Newsdesk