তথ্য-প্রযুক্তিসর্বশেষ

এআই খাতে ডেমোক্র্যাট ভীতি, বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি শেয়ারে ধস

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর প্রযুক্তি খাতে ভীতি ছড়িয়েছে। দলটি এআই শিল্পের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে পারে। এমন আশঙ্কায় শুক্রবার কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বড় ধরনের ধস নেমেছে।

দিনের শুরুতে বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারে লাল রঙের ছড়াছড়ি দেখা যায়। সবচেয়ে বেশি দরপতনের মুখে পড়ে সিউল ও টোকিওর বাজার। অনিশ্চয়তার মধ্যে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করে সরে যেতে থাকেন। অথচ পাঁচ মাস আগেও এই খাতের হাত ধরে শেয়ারবাজার রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল।

ডেমোক্র্যাটদের ঐতিহাসিক ‘ব্লু ওয়েভ’ বা বড় জয়ের খবরে দুই ধাপে বাজারে প্রভাব পড়ে। শুরুতে আশা করা হয়েছিল, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর ইরান যুদ্ধ বন্ধের চাপ বাড়বে। সেই স্বস্তিতে তেলের দাম কিছুটা কমে যায়। কিন্তু দুই দিনের মাথায় এআই শিল্পের উদ্বেগ বাজারে ধস নামাল।

বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের ভোটাররা প্রযুক্তিটির ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিরোধিতা করছেন। নির্বাচনে জয়ী অনেক প্রার্থীও এ ধরনের প্রকল্পের গতি কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এছাড়া, দেশজুড়ে ডেটা সেন্টার নির্মাণে স্থগিতাদেশের আহ্বান জানিয়েছেন প্রগতিশীল সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। এটি বিনিয়োগকারীদের মাঝে আরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এআই খাতে কোম্পানিগুলো শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। সেগুলো থেকে কবে মুনাফা আসবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ঋণের সুদ হার বেড়ে যাওয়ায় কোম্পানিগুলোর আর্থিক অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ ছড়িয়েছে।

এমসিএইচ মার্কেট ইনসাইটসের মাইকেল হিউসন বলেন, টেক্সাসে ইলন মাস্কের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের বড় একটি অংশ আছে। নির্বাচনে তিনি ট্রাম্পের দলকে সমর্থন দিয়েছিলেন। কিন্তু জিতেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী। এখন দলটি মাস্কের টেসলা ও স্পেসএক্সকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিনিয়োগকারীরা। ফলে তারা শেয়ার বিক্রি করছেন।

শুক্রবার নিউইয়র্কের নাসডাক সূচক ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। গত বছরের এপ্রিলের পর একদিনে এটি সবচেয়ে বড় দরপতন। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলাডেলফিয়া সেমিকন্ডাক্টর সূচক চলতি সপ্তাহে প্রায় ১৬ শতাংশ কমেছে।

এই দরপতনের জন্য ডেমোক্র্যাটদের দায়ী করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, ‘আজ শেয়ারবাজারে ধস নেমেছে। কারণ মঙ্গলবার ডেমোক্র্যাটরা বড় জয় পেয়েছে। এটা দেখে খুব খারাপ লাগছে। এর জন্য আপনারাই দায়ী।’

এশিয়ার শেয়ারবাজারেও দরপতন দেখা গেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে প্রধান সূচক কসপি একপর্যায়ে প্রায় ৯ শতাংশ পড়ে যায়। চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এসকে হাইনিক্সের শেয়ারের দাম কমেছে ১০ শতাংশের বেশি। প্রতিদ্বন্দ্বী স্যামসাংয়ের শেয়ারের দাম কমেছে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ।

জাপানে টোকিও শেয়ারবাজারের সূচক ৬ শতাংশ কমেছে। সফটব্যাংকের শেয়ারের দাম কমেছে ১০ শতাংশের বেশি। কিওক্সিয়ার শেয়ার কমেছে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ। তাইওয়ানের চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টিএসএমসির শেয়ারের দাম ৪ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে।

হংকং, সাংহাই, সিডনি, সিঙ্গাপুর, জাকার্তা, ব্যাংকক, ওয়েলিংটন ও ম্যানিলার শেয়ারবাজারেও দরপতন হয়েছে। ইউরোপের লন্ডন, প্যারিস ও ফ্রাঙ্কফুর্টের শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরুর পর পতন ১ শতাংশের বেশি।

সাম্প্রতিক সংবাদ

সাবেক ২ অতিরিক্ত আইজিপি ও আ.লীগ নেতার ভয়ংকর চক্রান্ত ফাঁস

Newsdesk

বগুড়ায় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসামি ছিনতাই, আটক ৪ নারী

Newsdesk

টেকনাফের পাহাড়ে তিনজনের মরদেহ, উদ্ধারে অভিযান

Newsdesk