আন্তর্জাতিক

ইরানকে শেষ সুযোগ দেয়ার সঙ্গে ধ্বংসের হুমকিও দিলেন ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মেঘ কাটাতে সোমবার ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফার সরাসরি আলোচনা শুরু হচ্ছে। তবে, এই আলোচনার ঠিক আগমুহূর্তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, এটিই তাদের জন্য ‘শেষ সুযোগ’। যদি তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া শর্ত মেনে চুক্তিতে না আসে, তবে ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সেতু ধ্বংস করে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন তিনি।

রোববার নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান শনিবার হরমুজ প্রণালীতে গুলি চালিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। তিনি দাবি করেন, ইরানি বাহিনী একটি ফরাসি ও একটি ব্রিটিশ মালবাহী জাহাজে গুলি চালিয়েছে।


ট্রাম্প সরাসরি হুঙ্কার দিয়ে লেখেন, আমরা একটি অত্যন্ত ন্যায়সঙ্গত এবং যুক্তিসঙ্গত চুক্তির প্রস্তাব দিচ্ছি। আমি আশা করি তারা এটি গ্রহণ করবে। কারণ যদি তারা তা না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং প্রতিটি সেতু গুঁড়িয়ে দেবে। তিনি আরও যোগ করেন, ইরান যদি চুক্তি সই না করে তবে পুরো দেশই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

গত সপ্তাহে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে মার্কিন দল ইসলামাবাদে প্রথম দফার সংলাপে অংশ নিলেও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা ছাড়াই তা শেষ হয়। সোমবারের দ্বিতীয় দফার বৈঠকে কারা থাকছেন সে বিষয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট কিছু জানাননি। হোয়াইট হাউস বা ভ্যান্সের দপ্তর থেকেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, আগামী বুধবারই বর্তমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে।

ট্রাম্পের এই হুমকির পরপরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া পোস্টে জানান, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ নিজেই একটি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ‘বেআইনি’ এবং ‘অপরাধমূলক’ বলে আখ্যা দেন। বাকায়ি আরও বলেন, অবরোধের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ওপর সামষ্টিক শাস্তি আরোপ করা যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের শামিল।


ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মতো ‘ভুল’ করবেন না। ওবামা প্রশাসন ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে যে পরমাণু চুক্তি করেছিল, ট্রাম্প তার ঘোর বিরোধী। তিনি এবার এমন এক চুক্তি চান, যা সম্পূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত অনুযায়ী হবে।

হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ নিয়ে দুই দেশই যখন অনড় অবস্থানে, তখন সোমবারের ইসলামাবাদ বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রাম্পের ভাষায়, এটিই শান্তির শেষ পথ। অন্যথায় বুধবারের পর অঞ্চলটি এক ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের সাক্ষী হতে পারে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা-সিএনএন

সাম্প্রতিক সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি চুক্তি অনেক ‘দূরে’: ইরান

Newsdesk

হযবরল হরমুজ: গুলি ও ক্ষেপনাস্ত্র হামলা, আটকা বহু জাহাজ, চলছে পাল্টপাল্টি হুমকিও

Newsdesk

ভিসা বাতিল হলো ২৬ প্রভাবশালী ব্যক্তির

Newsdesk