আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধ বন্ধে তেহরানে বিশেষ মিশনে কাতার প্রতিনিধিদল

ইরান যুদ্ধ বন্ধ এবং দুই দেশের মধ্যকার অমীমাংসিত সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ওয়াশিংটনের সাথে সমন্বয় করে কাতারের একটি বিশেষ প্রতিনিধিদল শুক্রবার তেহরানে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যের দৃশ্যপটে এই নতুন উদ্যেগের আলোচনার বিষয়ে অবগত একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।

গাজা যুদ্ধসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংকটে অন্যতম সফল মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতার পরিচিত হলেও, চলমান ইরান যুদ্ধে দোহা এত দিন নিজেদের গুটিয়ে রেখেছিল। বিশেষ করে যুদ্ধের শুরুর দিকে ইরানের মিসাইল ও ড্রোন হামলায় কাতারের অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর তারা এই দূরত্ব বজায় রাখে। তবে পর্দার আড়ালে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার অন্যতম বিশ্বস্ত মাধ্যম হিসেবে পরিচিত কাতার আবারও এই শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্ত হলো।

Iran War 01
যদিও যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পাকিস্তানই এই সংকটে অফিশিয়াল বা প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। সুইডেনে ন্যাটোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কাতারি প্রতিনিধিদলের তেহরান সফর নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ইরান আলোচনায় পাকিস্তানই আমাদের মূল আলোচনাকারী এবং তারা চমৎকার কাজ করেছে। তবে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর নিজস্ব কিছু স্বার্থ ও পরিস্থিতি রয়েছে। আমরা সবার সাথেই কথা বলছি, তবে আমাদের মূল অংশীদার পাকিস্তানই থাকছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের ওপর মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল। বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি চললেও বড় কোনো কূটনৈতিক সাফল্য এখনো আসেনি। বিশেষ করে আমেরিকার পক্ষ থেকে ইরানি বন্দরগুলো অবরুদ্ধ করে রাখা এবং ইরানের পক্ষ থেকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ কার্যকরভাবে বন্ধ করে দেওয়ার ফলে শান্তি আলোচনা বেশ জটিল হয়ে পড়েছে।

ইরানের একটি শীর্ষস্থানীয় সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, এখনো চূড়ান্ত কোনো চুক্তি না হলেও দুই পক্ষের মধ্যকার দূরত্ব অনেকটাই কমে এসেছে। তবে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার মতো বিষয়গুলো এখনো আলোচনার প্রধান বাধা হিসেবে রয়ে গেছে। অবশ্য মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত বৃহস্পতিবার কিছুটা আশার বাণী শুনিয়েছেন। তিনি বলেন, কিছু ভালো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তবে আমি এখনই বেশি আশাবাদী হতে চাই না। দেখা যাক কী ঘটে।

Iran War 07
ইরানের ভয়াবহ হামলার শিকার হওয়া সত্ত্বেও কাতারের এই নতুন মধ্যস্থতার উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যুদ্ধের সময় ইরান কাতারে শত শত মিসাইল ও ড্রোন ছুড়েছিল, যার বড় লক্ষ্য ছিল রাস লাফানের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন কেন্দ্র। ওই হামলায় কাতারের মোট এলএনজি রপ্তানি ক্ষমতার প্রায় ১৭ শতাংশ ধ্বংস হয়ে যায় এবং গত ২ মার্চ থেকে তারা এলএনজি উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়।

যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট এলএনজি বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই যাতায়াত করত, যার সিংহভাগ ছিল কাতারের। কিন্তু ইরান এই প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় কাতারের এলএনজি রপ্তানি ক্ষমতা কার্যত শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।

উল্লেখ্য, কাতার যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রধান নন-ন্যাটো মিত্র দেশ। মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি ‘আল উদেইদ এয়ার বেস’ এই কাতারেই অবস্থিত, যা এই আঞ্চলিক রাজনীতি ও শান্তি আলোচনায় দোহার ভূমিকাকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।

সাম্প্রতিক সংবাদ

বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী নিয়ে শুভেন্দুর নজিরবিহীন নির্দেশ

Newsdesk

গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীদের জন্য নতুন নিয়ম ঘোষণা করল যুক্তরাষ্ট্র

Newsdesk

রাশিয়ায় যুদ্ধে প্রাণ গেল আরও দুই বাংলাদেশি যুবকের

Newsdesk