আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
যুক্তরাষ্ট্রের ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলার জবাবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের তিন দেশ—কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনে একযোগে নজিরবিহীন আত্মঘাতী (কামিকাজে) ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইরানের সামরিক বাহিনী ও দেশটির প্রভাবশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) যৌথ বিবৃতিতে এই পাল্টা হামলার কথা নিশ্চিত করেছে।
ইরানি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা বিপুল সংখ্যক বিভিন্ন মডেলের দূরপাল্লার কামিকাজে ড্রোন ব্যবহার করে কুয়েতের পেট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কাতারের আর্লি ওয়ার্নিং (আগাম সতর্কবার্তা) সিস্টেম ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর ফুয়েল ট্যাংক বা জ্বালানি ডিপো লক্ষ্য করে এই সফল হামলা চালিয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি জানিয়েছে, হামলার পরপরই বাহরাইনজুড়ে বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়। এ সময় দেশটিতে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বাহরাইন কর্তৃপক্ষ দেশটির নাগরিক ও বাসিন্দাদের ‘শান্ত থাকার এবং দ্রুত নিকটবর্তী নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার’ নির্দেশ দিয়েছে।
এর কিছুক্ষণ পরই কুয়েতজুড়েও উচ্চশব্দে বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে। কুয়েতি সেনাবাহিনী এক জরুরি বিবৃতিতে জানিয়েছে, কুয়েতের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী এই মুহূর্তে দেশের আকাশসীমায় শত্রুভাবাপন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। অন্যদিকে কাতারেও বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির সতর্কতা জারি করে নাগরিকদের মোবাইল ফোনে জরুরি বার্তা (অ্যালার্ট) পাঠানো হয়েছে।
আইআরজিসি পৃথক এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত বেশ কয়েকটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে তাদের ড্রোনগুলো নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে। একই সঙ্গে তারা ওয়াশিংটন এবং আঞ্চলিক দেশগুলোকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের মূল ভূখণ্ডে আবারও কোনো হামলার ধৃষ্টতা দেখায়, তবে এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের ওপরও হামলার পরিধি আরও ব্যাপকভাবে বিস্তার করা হবে।
সূত্র : মিডল ইস্ট আই