আন্তর্জাতিক

তেহরানের সবশেষ প্রস্তাবের জবাব পাঠালো ওয়াশিংটন

সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান তাদের সবশেষ শান্তি প্রস্তাবের বিপরীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জবাব পেয়েছে বলে জানিয়েছে। রোববার, তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটন তাদের বার্তা পাঠিয়েছে এবং ইরান বর্তমানে তা পর্যালোচনা করছে। তবে, ওয়াশিংটন বা ইসলামাবাদ এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিক্রিয়ার কথা নিশ্চিত করেনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের এই প্রস্তাবের ব্যাপারে শুরু থেকেই নেতিবাচক ইঙ্গিত দিয়ে আসছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, ইরান গত ৪৭ বছর ধরে মানবতার ওপর যে আঘাত হেনেছে, তার বিপরীতে তারা এখনও যথেষ্ট মূল্য পরিশোধ করেনি। আর, এই কারণেই তিনি প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করার সম্ভাবনা দেখছেন।


যদিও ট্রাম্প জানিয়েছেন তিনি প্রস্তাবের প্রতিটি শব্দ বিস্তারিত পড়বেন, তবে প্রাথমিক ধারণার ভিত্তিতে তিনি খুব একটা সন্তুষ্ট নন। এমনকি ভবিষ্যতে ইরানের ওপর পুনরায় হামলা চালানো হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বিষয়টি নাকচ না করে একে একটি ‘সম্ভাবনা’ হিসেবে জিইয়ে রেখেছেন।

ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তাদের ১৪ দফা শান্তি প্রস্তাবের মূল বৈশিষ্ট্য হলো- পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত জটিল আলোচনাগুলো আপাতত সরিয়ে রেখে আগে চলমান যুদ্ধ বন্ধ করা এবং পারস্য উপসাগরের নৌ-অবরোধ তুলে নেয়া। ইরানের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবকে একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে যাতে আলোচনার পরিবেশ তৈরি হয়।


তেহরানের প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে- এই অঞ্চল থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার। ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ফেরত এবং ক্ষতিপূরণ প্রদান। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা। হরমুজ প্রণালীর জন্য একটি নতুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরি করা।

বিপরীতে, ওয়াশিংটনের দাবি অত্যন্ত কঠোর। মার্কিন প্রশাসনের মতে, যুদ্ধ বন্ধের আগেই ইরানকে তাদের প্রায় ৪০০ কেজি উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ ত্যাগ করতে হবে। পরমাণু ইস্যুকে আলোচনার শেষে রাখার ইরানি প্রস্তাব মার্কিন চাহিদার সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক।


গত দুই মাস ধরে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রায় সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ করে রেখেছে, যার ফলে বিশ্ববাজারে ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোতে পাল্টা অবরোধ আরোপ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্প অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে রয়েছেন, বিশেষ করে সামনে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন থাকায় ভোটারদের ক্ষোভের মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শান্তি আলোচনার সমান্তরালে দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সামরিক তৎপরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। রোববার ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের ১১টি গ্রামের বাসিন্দাদের দ্রুত এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সাথে তাদের আলোচনা সফল হওয়া কঠিন। হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলের এই অভিযান শান্তি প্রচেষ্টায় নতুন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।


বর্তমানে দুই পক্ষই তাদের অবস্থানে অনড়। একদিকে ইরান চাইছে অর্থনৈতিক স্বস্তি ও অবরোধ মুক্তি, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চাইছে ইরানের পরমাণু সক্ষমতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা। এই দুই বিপরীতমুখী অবস্থানের মাঝে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ এবং বিশ্ব তেলের বাজার এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে আছে।

সাম্প্রতিক সংবাদ

ভোট গণনা: তামিলনাড়ুতে এগিয়ে থালাপতি বিজয়ের দল

Newsdesk

সুখবর দিলেন শুভেন্দু, বললেন বাংলা এবার বিজেপির

Newsdesk

আটলান্টিকে প্রমোদতরীতে ছড়িয়ে পড়েছে রহস্যময় ভাইরাস, তিনজনের মৃত্যু

Newsdesk