আন্তর্জাতিক

পোল্যান্ডে সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র

পোল্যান্ডে অস্থায়ীভাবে চার হাজার সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। দেশটির দুই কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত ইউরোপে মার্কিন সেনা উপস্থিতি কমানোর বিষয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, এ নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি পেন্টাগন। কংগ্রেসকেও এ বিষয়ে অবহিত করা হয়নি বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন আইনপ্রণেতা।

মাত্র দুই সপ্তাহ আগে জার্মানি থেকে পাঁচ হাজার সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

তখন বলা হয়েছিল, ইউরোপ ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে ইরান যুদ্ধ নিয়ে বাড়তে থাকা মতবিরোধও এই সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
বর্তমানে জার্মানিতে প্রায় ৩৫ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে।

রয়টার্সকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পোল্যান্ডে সেনা মোতায়েন পরিকল্পনা বাতিলের সিদ্ধান্তটি জার্মানি থেকে সেনা কমানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। তার ইঙ্গিত, পোল্যান্ডে পাঠানোর জন্য নির্ধারিত সেনাদের অন্য কোনো ঘাঁটি থেকে আনা হতে পারে।

দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপে সেনা উপস্থিতি পুনর্বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন। ন্যাটোকে ইউরোপের নিরাপত্তায় আরো বড় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ইরান যুদ্ধেও ইউরোপীয় মিত্রদের পাশে না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ ম্যারৎসের সঙ্গেও এ নিয়ে তার প্রকাশ্য বাকবিতণ্ডা হয়েছে। ম্যারৎস গত মাসে বলেছিলেন, আলোচনায় ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অপমান’ করছে।

সেনেটের সশস্ত্র বাহিনী কমিটির সদস্য ডেমোক্র্যাট সিনেটর জিন শাহিন বলেছেন, পোল্যান্ড সংক্রান্ত সিদ্ধান্তটি তাদের কাছেও অপ্রত্যাশিত ছিল।

তিনি বলেন, ‘যতদূর জানি, আমাদের এ বিষয়ে জানানো হয়নি।’

রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনের পর সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইউরোপে মার্কিন সেনা সংখ্যা বাড়িয়েছিলেন। তবে জার্মানি থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ার সময় এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছিলেন, এতে ইউরোপে মার্কিন সেনা উপস্থিতি ২০২২ সালের আগের পর্যায়ে নেমে আসবে।

বর্তমানে ইউরোপে প্রায় ৮৫ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে।

ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর চাপ দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, মার্কিন সামরিক সুরক্ষার ওপর নির্ভর করে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা অবহেলা করেছে ইউরোপের অনেক দেশ।

গত মাসে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন না দেওয়া ন্যাটো মিত্রদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের বিকল্প নিয়ে পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ আলোচনা হয়েছিল। সেখানে স্পেনকে ন্যাটো থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা এবং ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ব্রিটেনের অবস্থানের বিষয়ে মার্কিন নীতি পুনর্বিবেচনার কথাও উঠে আসে।

সাম্প্রতিক সংবাদ

পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা, ভারতে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি

Newsdesk

বেইজিংয়ে ট্রাম্প, শিগগিরই চীন সফরে যাচ্ছেন পুতিন

Newsdesk

‘তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সংঘাত হতে পারে’— ট্রাম্পকে শি চিনপিং

Newsdesk