আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালি খুলে দিল ইরান, জ্বালানি বাজারে স্বস্তির আভাস

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি আবারও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, লেবাননে চলমান যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময়ের জন্য সব বাণিজ্যিক জাহাজকে নির্ধারিত সমন্বিত রুট অনুসরণ করে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিকভাবে স্বস্তির আভাস দেখা গেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোরগুলোর একটি এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক তেল ও এলএনজি বাণিজ্যের বড় অংশ পরিবাহিত হয়।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ (প্রায় ২০ শতাংশ) হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানির প্রধান প্রবেশপথ হওয়ায় এই জলপথে যেকোনো ধরনের উত্তেজনা বা বাধা সরাসরি বিশ্ববাজারে প্রভাব ফেলে।

শিপিং বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক উত্তেজনার সময় এই অঞ্চলে প্রতিদিন গড়ে ১৩০টির বেশি ট্যাঙ্কার ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করে। তবে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে অনেক সময় জাহাজগুলো বিকল্প রুট ব্যবহার বা অপেক্ষমাণ অবস্থায় থাকে, যা সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি করে।

লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সসহ আন্তর্জাতিক শিপিং পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক অস্থিরতার সময় উপসাগরীয় অঞ্চলে কয়েকশ জাহাজের চলাচল স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়, ফলে বীমা খরচ ও শিপিং চার্জ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ চেইন স্থিতিশীল থাকে এবং তেলের দামের ওপর চাপ কিছুটা কমে আসে। এর ফলে এশিয়া ও ইউরোপের আমদানি নির্ভর দেশগুলো সাময়িক স্বস্তি পায়।

তবে তারা সতর্ক করে বলছেন, এই সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থায়ী স্থিতিশীলতার নিশ্চয়তা দেয় না। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি কমেনি, ফলে ভবিষ্যতে আবারও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

এদিকে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই ইরানের এই সিদ্ধান্তকে সাময়িকভাবে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালি সচল থাকলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে, যা তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সাম্প্রতিক সংবাদ

ইরানের সঙ্গে চুক্তি হলে সই করতে পাকিস্তান যেতে পারেন ট্রাম্প

Newsdesk

হরমুজে যতদিন প্রয়োজন অবরোধ চলবে: পেন্টাগন

Newsdesk

৩৪ বছর পর বৈঠকে বসছেন ইসরাইল ও লেবাননের নেতারা

Newsdesk