আন্তর্জাতিক

৯০ দেশের প্রতিনিধি খামেনির শেষ বিদায়ে যোগ দেবেন

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে দেশটিতে ব্যাপক রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি, আলেম, ধর্মীয় নেতা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এ আয়োজনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশ আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিদল পাঠানোর প্রক্রিয়াও শুরু করেছে।

বুধবার (১ জুলাই) ইরানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, খামেনির শেষ বিদায়কে কেন্দ্র করে কয়েকদিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে দেশটির সরকার। তেহরান, কোম, মাশহাদের পাশাপাশি ইরাকের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় শহরগুলোতেও শোকানুষ্ঠান ও জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
https://youtu.be/kBkakHBpYbE

ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তাবিষয়ক উপমন্ত্রী আলি আকবর পুরজামশিদিয়ান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এ আয়োজন ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, ৩০টিরও বেশি দেশ ইতোমধ্যে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠানোর আগ্রহ জানিয়ে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করেছে। এছাড়া বিভিন্ন মুসলিম দেশ ও ধর্মীয় সংগঠন থেকেও অংশগ্রহণের বিষয়ে আলোচনা চলছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা বিবেচনায় অনুষ্ঠানগুলোকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে বিশেষ প্রস্তুতির প্রয়োজন ছিল। সে কারণেই শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিক সূচি কয়েকদিন পিছিয়ে আয়োজন করা হচ্ছে।

ইরান সরকার জানিয়েছে, খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠান তত্ত্বাবধানের জন্য জাতীয় পর্যায়ে একটি বিশেষ সমন্বয় কাঠামো গঠন করা হয়েছে। সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ, নেতার কার্যালয় এবং প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফের নেতৃত্বে গঠিত টাস্কফোর্স পুরো কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে।

নিরাপত্তা, পরিবহন, গণমাধ্যম, সংস্কৃতি, অবকাঠামো, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং বিশ্ববিদ্যালয় সমন্বয়ের জন্য পৃথক কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটি অনুষ্ঠানস্থলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে বিদেশি অতিথিদের যাতায়াত ও আবাসনের বিষয়গুলো দেখভাল করবে।

সরকারি সূত্রগুলো বলছে, বিপুল জনসমাগমের সম্ভাবনা থাকায় রাজধানী তেহরানসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন প্রদেশে স্থানীয় প্রশাসনকে বিশেষ নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৮ জুলাই খামেনির মরদেহ ইরাকে নেওয়া হবে। সেখানে বাগদাদ অথবা নাজাফ বিমানবন্দরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মরদেহ গ্রহণ করা হবে। এরপর নাজাফ ও কারবালায় পৃথক জানাজা ও শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরাক সরকারও একটি বিশেষ আয়োজন কমিটি গঠন করেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইতোমধ্যে ইরাকের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক করেছেন বলে জানা গেছে।

পরবর্তীতে মরদেহ আবার ইরানে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। ৯ জুলাই পবিত্র নগরী মাশহাদে জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। ইমাম রেজার মাজারসংলগ্ন এলাকায় খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের সমাহিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ইরানি কর্তৃপক্ষ বলছে, এমন একটি স্থান নির্বাচন করা হয়েছে যেখানে সাধারণ মানুষ সহজে জিয়ারত করতে পারবেন এবং অন্য দর্শনার্থীদের চলাচলেও সমস্যা হবে না।

ইরান সরকারের ধারণা, এ আয়োজন মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে নতুন ধরনের সংহতির বার্তা বহন করবে। বিশেষ করে ইরাক, পাকিস্তান, আফগানিস্তানসহ প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন, ইসলামি চিন্তাবিদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষকদের মধ্যেও আগ্রহ দেখা গেছে। ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের বাইরে থেকেও অনেকে অংশ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

জানাজা ও শোকানুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ইরানের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তেহরান, কোম এবং খোরাসান রাজাভি প্রদেশে ধাপে ধাপে ছুটি কার্যকর হবে। মূল জানাজার দিনে দেশজুড়ে সরকারি কার্যক্রম সীমিত রাখা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

জনগণের চলাচল সহজ করতে রাজধানী তেহরানে বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। তেহরান মেট্রো ও সিটি বাস বিনা ভাড়ায় চলবে এবং মেট্রো সার্বক্ষণিক সেবা দেবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি রাজধানীর প্রবেশপথে ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য অস্থায়ী বড় পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হবে।

নাগরিকদের ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে সরকার। কারণ বিপুল মানুষের উপস্থিতিতে সড়কে যানজট ও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

খামেনির জানাজা কাভার করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে শত শত সাংবাদিক ইতোমধ্যে নিবন্ধন করেছেন। ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৩০০ জনের বেশি বিদেশি সাংবাদিক এ আয়োজন কাভার করার অনুমতি চেয়েছেন।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠান চলাকালে ইন্টারনেট সেবা সীমিত করার কোনো পরিকল্পনা নেই। বিদেশি সাংবাদিক ও অংশগ্রহণকারীদের সহায়তায় বিশেষ তথ্যসেবা কেন্দ্র ও জাতীয় হটলাইন চালু করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিশ্বকাপে ঐতিহাসিক জয়, উদযাপন করতে গিয়ে ৩ জনের প্রাণহানি

Newsdesk

উল্টে গেলো ৯১ বছরের নজির, একচ্ছত্র ক্ষমতা পেলেন ট্রাম্প

Newsdesk

কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে ১৪ শিশুর মৃত্যু

Newsdesk