ভারতে উন্নত চিকিৎসার অংশ হিসেবে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারকে নিয়ে শুরু হয়েছে ধাপে ধাপে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট প্রস্তুতি। গুরুতর লিভারজনিত জটিলতায় আক্রান্ত এই তরুণীর চিকিৎসা বর্তমানে চলছে ভারতের ভেলোরে অবস্থিত খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে। চিকিৎসকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে তার ফুসফুসের জটিলতা নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে, এরপরই শুরু হবে লিভার প্রতিস্থাপনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি।
গত সোমবার রাতে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ভারতে নেওয়া হয়। দ্রুত শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। যাত্রার সময় তার সঙ্গে ছিলেন মা ও দুই ভাই। বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ, যিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসা সমন্বয়ের সঙ্গে যুক্ত।
ভারতে পৌঁছানোর পর থেকেই চিকিৎসকরা দ্রুত প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন। বর্তমানে চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হলো কারিনার ফুসফুসে জমে থাকা জটিলতা নিয়ন্ত্রণে আনা এবং শারীরিক অবস্থাকে ট্রান্সপ্ল্যান্টের জন্য উপযোগী করা। চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তার রক্তচাপ বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে এবং হৃদপিণ্ড ও কিডনি স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে, যা চিকিৎসকদের জন্য কিছুটা স্বস্তির বিষয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লিভার প্রতিস্থাপনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য ডোনার হিসেবে দুই ভাইয়ের রক্তের পরীক্ষা করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে একজনের সঙ্গে তার রক্তের গ্রুপ মিল পাওয়া গেছে বলে জানা যায়। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে আরও কিছু মেডিকেল মূল্যায়ন প্রয়োজন হবে।
চিকিৎসক ও পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানায়, বিদেশে নেওয়ার আগে দেশে অবস্থানকালে কারিনার শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটে। এ সময় তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয় এবং পরে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। অবস্থার গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছালে চিকিৎসকের পরামর্শে দ্রুত বিদেশে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কায়সার হামিদ গণমাধ্যমকে জানান, চেন্নাই পৌঁছানোর পর থেকেই চিকিৎসা কার্যক্রম দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতেই ফুসফুসের জটিলতা নিয়ন্ত্রণে আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত ফ্লুইড জমে যাওয়ার কারণে ফুসফুসে সমস্যা তৈরি হয়েছিল, যা ধীরে ধীরে অপসারণের প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি আরও জানান, স্থানীয় চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয় করে ধাপে ধাপে ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় রোগীর শারীরিক স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই আপাতত জটিলতা নিয়ন্ত্রণকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
পরিবার সূত্রে আরও জানা যায়, প্রথমে কারিনা জ্বরে আক্রান্ত হন। পরে ধীরে ধীরে শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে তার শরীরে হেপাটাইটিস এ এবং ই ভাইরাস শনাক্ত হয়, যা লিভারের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটায় লিভার ফেইলিওরের মতো জটিল অবস্থার সৃষ্টি হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে কারিনা কায়সার কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ পরিচিতি পান। পাশাপাশি তিনি অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ও নাটকে কাজের মাধ্যমে তরুণ দর্শকদের মধ্যে তার আলাদা পরিচিতি তৈরি হয়। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে “ইন্টার্নশিপ” এবং “৩৬-২৪-৩৬”।