দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে যুদ্ধের অবসান এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে মার্কিন প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক জবাব দিয়েছে ইরান। রোববার, তেহরান তাদের মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে এই উত্তর পাঠিয়েছে বলে খবর দিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা। এক সপ্তাহের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের কথা রয়েছে, তার ঠিক আগেই ইরানের এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
ইরানের দেওয়া এই জবাবে মূলত দুটি বিষয়ের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে, চলমান যুদ্ধের স্থায়ী অবসান এবং পারস্য উপসাগরসহ হরমুজে প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা। ইরান স্পষ্ট করেছে যে, তারা শুধু একটি সাময়িক সমঝোতা নয়, বরং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও আঞ্চলিক দেশগুলোর গ্যারান্টিসহ এমন একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি চায় যা ভবিষ্যতে যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি রোধ করবে।
তবে, তেহরান একটি বিষয় পরিষ্কার করে দিয়েছে হরমুজ প্রণালী ওপর তাদের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব বজায় থাকবে। বর্তমানে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এই কৌশলগত জলপথে চলাচলের জন্য একটি নতুন যান্ত্রিক ব্যবস্থা বা মেকানিজম তৈরির কাজ করছে। এই বিষয়ে দেশটির সেনাপ্রধানকে নির্দেশনাও দিয়েছেন ইরানি নেতা মোজতবা খামেনি।
মিডল ইস্ট স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ সেন্টারের সিনিয়র ফেলো আব্বাস আসলানি জানিয়েছেন, ইরানের এই উত্তরটি শুধু এক শব্দের কোনো ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ নয়। বরং এটি মার্কিন প্রস্তাবিত খসড়ার ওপর ইরানের দৃষ্টিভঙ্গি, ব্যাখ্যা এবং কিছু বিষয়ে স্পষ্টীকরণ। পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন থাকলেও ইরান আইএইএ’র পরিদর্শনের বিষয়ে নমনীয়তা দেখিয়েছে। তবে, বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে রপ্তানি করতে বা অনির্দিষ্টকালের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখতে বাধ্য করতে চায়, তবে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।
এই পুরো প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান একটি অত্যন্ত সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। একদিকে ইরানের সাথে দেশটির সুসম্পর্ক, অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের সাথেও বর্তমান সুসম্পর্ক ইসলামাবাদকে একটি দক্ষ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনের সুযোগ করে দিয়েছে। পাকিস্তানের জন্য এই যুদ্ধ বিরতি অত্যন্ত জরুরি, কারণ যুদ্ধের প্রভাবে দেশটির অর্থনীতি খাদের কিনারে ঠেকেছে। জ্বালানির আকাশচুম্বী দাম এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। ফলে একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্যের মাধ্যমে এই সংকট কাটাতে পাকিস্তান সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে।
মার্কিন প্রশাসন আগে থেকেই বলে আসছিল, এই সংকটের সমাধান ফোনের মাধ্যমেই সম্ভব। এখন দেখার বিষয়, তেহরানের ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে ওয়াশিংটন কতটা ইতিবাচক সাড়া দেয়। আগামী কয়েক দিন এ অঞ্চলের রাজনীতির জন্য অত্যন্ত সংকটময় হতে চলেছে। ট্রাম্পের চীন সফরের আগেই যদি একটি প্রাথমিক শান্তি চুক্তি সম্ভব হয়, তবে তা বিশ্ব অর্থনীতি এবং জ্বালানি বাজারের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর নিয়ে আসবে।
ইরান গত এক বছরের মধ্যে আলোচনার মাঝপথেই দুবার আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ তুলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তেহরানের বার্তা এখন পরিষ্কার, আগে যুদ্ধের অবসান এবং নিরাপত্তার নিশ্চয়তা, তারপর অন্য বিষয় নিয়ে আলোচনা। এখন বল ওয়াশিংটনের কোর্টে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা-সিএনএন-বিবিসি
তামিলনাড়ু প্রশাসনে আমিই ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু: বিজয়