বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে ‘নাস্তিক’ হিসেবে সম্বোধন করার অভিযোগে কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে সিরাজগঞ্জের একটি আদালত।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বেলা পৌনে ১২টার দিকে সিরাজগঞ্জের চৌহালী আমলি আদালতের বিচারক সুমন ভুঁইয়া এই নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর নামে মানহানিকর বক্তব্য ও তাকে নাস্তিক বলে অভিহিত করায় মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছিলো। আজ সিরাজগঞ্জের সংশ্লিষ্ট আদালত শুনানি শেষে এই পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
গত বেশ কিছু সময় ধরে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে আমির হামজার দেওয়া ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনার সৃষ্টি করেছিলো। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, এমন বক্তব্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সামাজিক ও রাজনৈতিক সম্মানে চরম আঘাত হেনেছে।
তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (দুপুর সোয়া ১২টা) এ বিষয়ে এমপি মুফতি আমির হামজার কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
৩০ মার্চ দুপুরে সিরাজগঞ্জের একটি আদালতে অ্যাডভোকেট এস এম নাজমুল ইসলাম বাদি হয়ে আমির হামজার বিরুদ্ধে এই মামলা করেন।
সেদিন মামলার বাদি নাজমুল ইসলাম বলেন, মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ একজন সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান। তিনি এলাকায় অসংখ্য মসজিদ, মাদ্রাসা ও কবরস্থানের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন। গত ২৬ মার্চ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানিয়ে তিনি একটি বক্তব্য দেন। সেই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আমির হামজা তাকে ‘আপাদমস্তক নাস্তিক’ বলে মানহানি করেছেন। এ কারণে দণ্ডবিধির ৫০০ ধারায় এই মামলা করা হয়েছে।
বাদিপক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইন্দ্রজিৎ সাহা জানান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর বাবা পাকিস্তান আমলে মন্ত্রী ছিলেন এবং টুকু নিজেও দুইবার মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। এমন একজন ব্যক্তিকে নাস্তিক বলায় সিরাজগঞ্জসহ সারাদেশের মানুষ ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত। তথ্য-উপাত্তসহ বিষয়টি উপস্থাপনের পর আদালত মামলাটি আমলে নিয়েছেন। আজ বিকেলের মধ্যেই এ বিষয়ে আদালত থেকে আদেশ আসতে পারে।