আন্তর্জাতিকসর্বশেষ

আসামিদের গেঞ্জি-জুতো খুলে সেই গলিতেই হাঁটালো পুলিশ!

প্রেমিক কিশোর, তার বাবা ও বন্ধুকে মারধর করে বিবস্ত্র অবস্থায় রাস্তায় ঘুরিয়ে চরম অবমাননা করার পর এবার পুলিশের হাতে একই কায়দায় মোক্ষম শিক্ষা পেল আসামিরা। মঙ্গলবার কলকাতার বেহালা এলাকার খুদিরাম পল্লীতে তিন অভিযুক্তকে কোমরে দড়ি বেঁধে, খালি গায়ে ও খালি পায়ে হেঁটে নিয়ে যায় পুলিশ। ঠিক যেই গলিতে দুই দিন আগে ভুক্তভোগীদের নগ্ন করে ঘোরানো হয়েছিল, ঠিক সেই পথেই এই প্রধান তিন অভিযুক্তকে হাফপ্যান্ট পরিয়ে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের এই নাটকীয় পদক্ষেপকে ভুক্তভোগীদের ওপর চালানো নির্যাতনের একপ্রকার ‘ইনস্ট্যান্ট জাস্টিস’ বা তাৎক্ষণিক বিচার হিসেবেই দেখছেন।

লোমহর্ষক এই ঘটনাটি ঘটে গত রোববার সন্ধ্যায় বেহালার সরশুনা থানা এলাকায়। পুলিশ সূত্রের খবর, ১৭ বছরের এক কিশোর তার এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে তার নাবালিকা বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে, দেখা করার সময় ওই তরুণীকে চুম্বন করতে দেখে ফেলে তার মামার এক বন্ধু। খবরটি মুহূর্তের মধ্যে পৌঁছে যায় কিশোরীর বাবা ও মামার কাছে। তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে দুই তরুণকে ধরে খুদিরাম পল্লীর একটি বাড়িতে আটকে রেখে বেদম মারধর করে।

নির্যাতনের মাত্রা এখানেই শেষ হয়নি! এরপর পরিবারটি কৌশল করে কিশোরের বাবাকে খবর দিয়ে ডেকে পাঠায়। তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাঁকেও বেধড়ক মারধর ও কাঁচের বোতল দিয়ে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে কিশোরীর মামা একটি আগ্নেয়াস্ত্র বের করে কিশোরের বাবার সামনে তুলে ধরে এক নারকীয় শর্ত দেয়, ‘হয় নিজের ছেলেকে নিজ হাতে গুলি কর, না হয় ছেলের সাথে উলঙ্গ হয়ে পুরো রাস্তায় হাঁটো!’

প্রাণভয়ে এবং ছেলেকে বাঁচানোর তাগিদে বাবা, ছেলে ও তার বন্ধু নগ্ন হয়ে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেন। প্রায় ৫০ মিটার ধরে বন্দুকের মুখে তাঁদের বিবস্ত্র অবস্থায় রাস্তায় ঘোরানো হয়, আর আশপাশের মানুষ সেই দৃশ্য নিজেদের মোবাইলে রেকর্ড করতে থাকে। ঘটনাটি থামাতে গিয়ে কিশোরের মাও হামলার শিকার হন এবং গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁর চিকিৎসা চলছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হতেই তোলপাড় শুরু হয়। ঘটনার অভিযোগে কিশোরীর মামা ও বড় ভাইকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে অপরাধের দৃশ্য পুনর্নির্মাণ বা ‘সিন রিকনস্ট্রাকশন’ করার নাম করে আসামিদের জুতো-গেঞ্জি খুলে, হাত ও কোমরে রশি বেঁধে ওই একই গলিতে প্রকাশ্যে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম আলোড়ন তৈরি হয়েছে এবং পুলিশ বন্দুক ব্যবহারের অভিযোগসহ পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালাচ্ছে।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

সাম্প্রতিক সংবাদ

জামায়াতের এমপি মাসুদ সাঈদীর রিসোর্টের নির্মাণকাজ বন্ধ

Newsdesk

ইনানীতে গুঁড়িয়ে দেয়া হলো ৬ কোটি টাকার রিসোর্ট

Newsdesk

মধ্যরাতেই প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে ‘অর্ণব’

Newsdesk