কানাডায় চাকরি ও স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক বাংলাদেশি নারীকে মানব পাচার, শ্রম শোষণ ও যৌন নির্যাতনের দায়ে দুই বাংলাদেশিকে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সাজাপ্রাপ্ত মোহাম্মদ মাসুমকে ১৪ বছর এবং সোহেল হায়দারকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ওই নারী বাংলাদেশে প্রায় ১৮ বছর সরকারি চাকরি করেছিলেন। কানাডায় রেস্তোরাঁয় কাজ এবং ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাওয়ার আশায় তিনি দেশটিতে পাড়ি জমান। ২০২২ সালের আগস্ট থেকে ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত সাসকাচুয়ানের গাল লেক ও টিসডেল এলাকার বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় কাজ করেন তিনি।
মামলার তথ্য ও আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, ওই নারীকে সপ্তাহে ছয় দিন দীর্ঘ সময় কাজ করতে বাধ্য করা হতো। কাজের তুলনায় যথাযথ মজুরি দেওয়া হতো না। পাশাপাশি, তার ওয়ার্ক পারমিট নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি করা হয়েছিল।
একপর্যায়ে মাসুম তার পাসপোর্ট নিজের কাছে রেখে দেন এবং একাধিকবার যৌন নির্যাতন করেন। আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতে এসব অপরাধের দায় প্রতিষ্ঠিত হয়।
পরে এলরোজ এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় কাজের অনুমতিপত্র নিয়ে যাওয়ার পর স্থানীয় কয়েকজনের সহায়তায় ওই নারী শোষণমূলক পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসেন। এরপর তিনি আইনি সহায়তা গ্রহণ করেন।
কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদালত ভুক্তভোগীর বকেয়া মজুরি পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন। এ অনুযায়ী, মাসুমকে ১২ হাজার ২৬৮ কানাডীয় ডলার এবং হায়দারকে ৫ হাজার ৮৮৫ ডলার ১৬ সেন্ট দিতে হবে।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ওই নারী জানান, এ ঘটনার কারণে তার ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার, সম্মান ও পেশাগত ভবিষ্যৎ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ার পাশাপাশি অন্যদের বিশ্বাস করতেও তিনি আগের মতো স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না।
ভুক্তভোগীর পরিচয় সুরক্ষায় আদালত মামলাটিতে প্রকাশনা-নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।
এই রায় কানাডায় অভিবাসনপ্রত্যাশী ও অস্থায়ী বিদেশি কর্মীদের শোষণের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। চাকরি, ওয়ার্ক পারমিট কিংবা স্থায়ী বসবাসের প্রতিশ্রুতিকে কাজে লাগিয়ে কাউকে শোষণ করা যে গুরুতর অপরাধ, মামলাটির রায়ে তা স্পষ্ট হয়েছে।