রাজনীতিতে প্রতিকূলতা সামলে নেওয়ার জন্য সহনশীলতা ও ধৈর্য অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, রাজনীতিতে অনেক কটু ও কঠিন বাস্তবতা সহ্য করতে হয়; ফলে যার মধ্যে সহনশীলতা বা ধৈর্যের অভাব রয়েছে, সে কখনোই সফল বা ভালো রাজনীতিক হতে পারে না।
শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সাহিত্য পত্রিকা ‘সারেঙ’-এর ‘রেজাউদ্দিন স্টালিন সংখ্যা’র প্রকাশনা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: সালাহউদ্দিন আহমদতত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: সালাহউদ্দিন আহমদ
বিগত ১৭ বছরের তীব্র রাজনৈতিক প্রতিকূল সময়ের কথা স্মরণ করে রুহুল কবির রিজভী আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ওই দুঃসময়ে মামলা ও কারাবরণের চরম আশঙ্কায় নিকটাত্মীয় ও বন্ধুবান্ধবরাও পারিবারিক কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে আমাদের আমন্ত্রণ জানাতে ভয় পেতেন। স্বজনদের আন্তরিকতার ঘাটতি না থাকলেও, বিরোধী রাজনেতাদের উপস্থিতির কারণে অন্য আমন্ত্রিত অতিথিরা যেন হয়রানি বা সমস্যায় না পড়েন, সেই আশঙ্কাতেই অনেকে দূরত্ব বজায় রাখতেন। তবে সেই কঠিন ও সংকটময় দিনগুলোতেও কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন পরম সাহসের সঙ্গে তাঁদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন।
সাহিত্য ও সমসাময়িক বৈশ্বিক সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রিজভী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে পুরো পৃথিবী আজ এক গভীর অস্তিত্ব সংকটের মুখে। প্রতিটি রাষ্ট্রই এই সংকট মোকাবিলায় পথ খুঁজছে। আধুনিক কবিদের দায়িত্ব হলো তাদের লেখনীতে এই সমকালীন সংকট ও সাধারণ মানুষের জীবন সংগ্রামকে ফুটিয়ে তোলা। জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো কবিতায় উঠে না এলে সাহিত্য পূর্ণাঙ্গ রূপ পায় না। এ প্রসঙ্গে কবি স্টালিনের বিখ্যাত পঙ্ক্তি ‘একদিন বৃক্ষের জন্য সবাইকে কাঁদতে হবে’ উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, এটি বৈশ্বিক পরিবেশ সংকটের এক অসাধারণ সত্য ও নিখুঁত প্রতিচ্ছবি।
দেশের সাম্প্রতিক সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ইতিবাচক ধারার কথা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, শিল্পকলা একাডেমি কেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড কিছুটা গতি পেয়েছে। একজন উপযুক্ত ও যোগ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকলে তা কতটা কর্মময় হয়ে ওঠে, রেজাউদ্দিন স্টালিন তা প্রমাণ করেছেন। পাশাপাশি কাজী নজরুল ইসলামের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, জাতীয় কবি কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম হয়েও সরাসরি দলের সদস্য হননি; একইভাবে স্টালিন রাজনৈতিক বিশ্বাস ধারণ করলেও নিজেকে কোনো সংকীর্ণ দলীয় কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি, যা একজন বড় মাপের কবির অন্যতম বড় পরিচয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে এবং ‘সারেঙ’-এর সম্পাদক আবদুর রহমান মল্লিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি মোহন রায়হান, মুক্তচিন্তা বাংলাদেশের আহ্বায়ক আবুল কাসেম হায়দার এবং কবি ও সাংবাদিক শাহীন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে অন্যান্য কবি, লেখক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন।