ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুই বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। বিজিবির দাবি, চোরাচালানকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (৮ মে) গভীর রাতে উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের সীমান্ত ভারতের অভ্যন্তরে ধজনগর-পাথারিয়াদ্বার সীমান্তে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ধজনগর গ্রামের বাতেনবাড়ি এলাকার হেবজু মিয়ার ছেলে মোরছালিন (১৮) এবং পাশের মধুপুর গ্রামের নবীর হোসেন (৪০)। মোরছালিন স্থানীয় গোপীনাথপুর শাহআলম ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
নিহতদের পরিবার জানায়, শুক্রবার রাতে কয়েকজন চোরাকারবারি মোরছালিনকে বাড়ি থেকে ডেকে পাথারিয়াদ্বার সীমান্তে নিয়ে যায়। একই সময়ে নবীর হোসেনসহ আরও কয়েকজন সীমান্ত এলাকায় যান। এ সময় বিএসএফ তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই মোরছালিন নিহত হন। বিএসএফ তার মরদেহ নিয়ে যায়। এ সময় গুলিতে আহত নবীর হোসেনকেও ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ভারতের আগরতলার জিবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতদের স্বজনরা এই ঘটনার জন্য দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন-৬০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম জানান, আনুমানিক ১৫ জন বাংলাদেশি ভারতের প্রায় ২০০ গজ অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে বিএসএফের ৪৯ ব্যাটালিয়নের টহল দল তাদের বাধা দেয়। এ সময় ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা গুলি চালালে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
বিজিবির এই কর্মকর্তা আরও জানান, বিএসএফের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় কেউ আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়নি। বর্তমানে বিএসএফের সঙ্গে ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের মাধ্যমে নিহতদের মরদেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।
মরদেহ দুটি বর্তমানে ভারতের আগরতলার জিবি হাসপাতালের মর্গে রয়েছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।