নিউজিল্যান্ডের কাছে ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজের শুরুটা হার দিয়ে করেছিল বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজে সমতা আনে টাইগাররা। ফলে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত শেষ ম্যাচটি হয়ে ওঠে সিরিজ নির্ধারণী। সেই ম্যাচেই শান্তর সেঞ্চুরি আর মুস্তাফিজের ফাইফারে দাপুটে জয় তুলে নিয়ে সিরিজ নিজেদের করে নিলো বাংলাদেশ।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডেতে ২০১৩-১৪ সালের পর এই প্রথম সিরিজ জিতলো বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ম্যাচে টসে জিতে আগে ব্যাটিং করতে নামা বাংলাদেশের শুরুটা ছিলো বিপর্যয়ের। ও’রোর্কের গতি আর সুইংয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন টপ-অর্ডারের ব্যাটাররা। দ্রুত উইকেট হারিয়ে স্বাগতিকরা যখন চাপে, তখন দলের হাল ধরেন শান্ত ও লিটন। এই জুটির সাবধানি অথচ আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ইনিংস পুনর্গঠিত হয়।
দুজনই সাবলীল ব্যাটিংয়ে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন। মনে হচ্ছিলো দুজনেই বড়ো শতকের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু খেলার ধারার বিপরীতে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে ফেরেন লিটন দাস (৭৬)।
লিটন ফিরলেও শান্ত নিজের লড়াই চালিয়ে যান এবং এক চমৎকার সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। তবে শতকের পর রানের গতি বাড়াতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তিনি। শান্ত থামেন ১০৫ রান করে।
চট্টগ্রামের মন্থর উইকেটে নতুন ব্যাটারদের জন্য স্ট্রোক খেলা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। ফলে শেষ পাঁচ ওভারে বাংলাদেশ যেভাবে ঝড় তুলতে চেয়েছিলো, তা আর সম্ভব হয়নি। শেষ পাঁচ ওভারে কিউই বোলাররা অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে মাত্র ৩৪ রান খরচ করেন।
৫০ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর গিয়ে দাঁড়ায় আট উইকেট হারিয়ে ২৬৫।
২৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শুরু থেকেই চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। নতুন বল হাতে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন মুস্তাফিজুর রহমান। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে কিউইদের প্রথম আঘাত আসে তার হাতেই। দ্বিতীয় বলেই মুস্তাফিজের বাউন্স সামলাতে ব্যর্থ হন হেনরি নিকোলস। ব্যাট ছুঁয়ে বল উঠে যায় উইকেটকিপার লিটন দাসের গ্লাভসে। ৪ রান করে ফেরেন নিকোলস, ভাঙে ৮ রানের উদ্বোধনী জুটি।
অন্য ওপেনার উইল ইয়াংও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। নাহিদ রানার অফ স্ট্যাম্পের বাইরের লেংথ ডেলিভারিতে খোঁচা দিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তিনি। ২৫ বলে ১৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন ইয়াং।
৫৪ রানে ২ উইকেট হারানোর পর দায়িত্ব নেন অধিনায়ক টম ল্যাথাম। তবে তিনিও ব্যর্থ হন। ইনিংসের ১৭তম ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজের মিডল স্ট্যাম্পের ওপর করা বলে সুইপ করতে গিয়ে টপ এজ হয়ে শর্ট ফাইন লেগে দাঁড়িয়ে থাকা শরিফুল ইসলামের হাতে ধরা পড়েন তিনি। ১৩ বলে ৫ রান করে আউট হন ল্যাথাম।
৬১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যাওয়া কিউইদের হাল ধরেন নিক কেলি ও মোহাম্মদ আব্বাস। বিশেষ করে কেলি দারুণ ব্যাটিং করে ফিফটি তুলে নেন ৬৮ বলে। তবে ফিফটির পর বেশিদূর যেতে পারেননি তিনি। ৫৯ রান করে মুস্তাফিজের শিকার হয়ে ভাঙেন ৪৭ রানের জুটি।
অন্য প্রান্তে ভালো শুরু পাওয়া আব্বাসকে বোল্ড করেন শরিফুল ইসলাম। ৩৬ বলে ২৫ রান করে ফেরেন তিনি। এতে ১২৪ রানে পঞ্চম উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে অনেকটাই ছিটকে যায় নিউজিল্যান্ড।
শেষদিকে ডিন ফক্সক্রফট একাই লড়াই চালিয়ে যান। তার ৭৫ রানের ইনিংস কেবল হারের ব্যবধান কমায়। নির্ধারিত ৪৪ ওভার ৫ বলে ২১০ রানে অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৬৫/৮ (সাইফ ০, তানজিদ ১, সৌম্য ১৮, শান্ত ১০৫, লিটন ৭৬, হৃদয় ৩৩*, মিরাজ ২২, শরিফুল ১, তানভির ০, মোস্তাফিজ ৩*; ও’রোউর্ক ৭-১-৩২-৩, স্মিথ ৯-০-৫০-০, লিস্টার ১০-০-৬২-২, আব্বাস ৫-০-১৬-০, ক্লার্কসন ৩-০-১৯-০, লেনক্স ১০-০-৫০-২, ফক্সক্রফট ৬-০-৩৫-১)
নিউজিল্যান্ড: ৪৪.৫ ওভারে ২১০/১০ (নিকোলস ৪, কেলি ৫৯, ইয়াং ১৯, ল্যাথাম ৫, আব্বাস ২৫, ফক্সক্রফট ৭৫, ক্লার্কসন ৬, স্মিথ ২, লেনক্স ২, ও’রোউর্ক ১, লিস্টার ২*; শরিফুল ৭-০-১৯-১, মোস্তাফিজুর ৯.২-২-৪৩-৫, নাহিদ ১০-১-৩৭-২, তানভির ১০-০-৭০-০, মিরাজ ৮.৫-০-৩৬-২)
ফল: বাংলাদেশ ৫৫ রানে ম্যাচ এবং ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ী।
ম্যান অফ দা ম্যাচ: নাজমুল হোসেন শান্ত
ম্যান অফ দা সিরিজ: নাহিদ রানা

