কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোল, মাইকেল অলিসের অবদানে সুইডেনকে হারিয়ে দাপটের সঙ্গে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে পা রাখলো ফ্রান্স। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলেই রেখেছিল দিদিয়ের দেশমের দল।
এদিন ম্যাচের শুরুতে সুইডেন রক্ষণে সংগঠিত থেকে পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করলেও ধীরে ধীরে খেলার নিয়ন্ত্রণ নেয় ফ্রান্স। প্রথম ২০ মিনিটে এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও লুকা দিনিয়ের কয়েকটি প্রচেষ্টা গোলরক্ষক জ্যাকব জেটারস্ট্রম রুখে দেন। ২০তম মিনিটে এমবাপ্পে বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়।
এরপর আক্রমণের গতি আরও বাড়ায় ফ্রান্স। ৩০তম মিনিটে আদ্রিয়েন রাবিওর নিচু শট পায়ে ঠেকিয়ে ফেরান জেটারস্ট্রম। দুই মিনিট পর জুল কুন্দের পাস থেকে এমবাপ্পের শট পোস্টে লাগে। ৩৬তম মিনিটে অলিসের দুর্দান্ত ওভারহেড কিক পোস্টে প্রতিহত হয়, আর ফিরতি বলে দেম্বেলের শট অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়।
অবশেষে প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। কর্নার থেকে দেম্বেলে ও অলিসের ছোট পাসের সমন্বয়ের পর বল পেয়ে বক্সের বাঁ দিক থেকে ভেতরে ঢুকে দুর্দান্ত বাঁকানো শটে জাল খুঁজে নেন এমবাপ্পে। যোগ করা সময়ে এলাঙ্গার ক্রস থেকে সুইডেন সমতায় ফেরার সুযোগ পেলেও স্ট্রাউড লক্ষ্যভ্রষ্ট হন। ফলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় ফ্রান্স।
দ্বিতীয়ার্ধেও ফ্রান্সের আধিপত্য অব্যাহত থাকে। ৫৩তম মিনিটে অলিসের নিখুঁত থ্রু পাস ধরে দুর্দান্ত ফিনিশে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ব্র্যাডলি বারকোলা।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর সুইডেন আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করলেও ফরাসি রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। বরং দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে একের পর এক সুযোগ তৈরি করে ফ্রান্স। ৬৫তম মিনিটে এমবাপ্পের পাস থেকে অলিসের শট ভালোভাবে রুখে দেন জেটারস্ট্রম।
৭৪তম মিনিটে ম্যাচে শেষ পেরেক ঠুকে দেন এমবাপ্পে। অলিসের নিখুঁত পাস ধরে ডান পায়ের নিখুঁত শটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোল করেন ফরাসি অধিনায়ক।
শেষদিকে আলেক্সান্ডার ইসাক ও ভিক্টর গিওকেরেস গোলের চেষ্টা করলেও মাইক মেনিয়াঁকে পরাস্ত করতে পারেননি। অন্যদিকে বারকোলা, দেজিরে দুয়ে ও জ্যাঁ-ফিলিপ মাতেতাও আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও ব্যবধান আর বাড়েনি।
শেষ পর্যন্ত এমবাপ্পের জোড়া গোল ও বারকোলার এক গোলে ৩-০ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলাতো জায়গা নিশ্চিত করে ফ্রান্স। শেষ আটে জায়গা করার মিশনে রোববার ভোরে তারা মুখোমুখি হবে জার্মানিকে বিদায় করা প্যারাগুয়ের।