ব্যাট-বলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে দিলো বাংলাদেশ। ফ্ল্যাট উইকেটে এক সময় মনে হচ্ছিলো কিউইরা ২০০ রানের গণ্ডি ছাড়িয়ে যাবে, কিন্তু স্বাগতিক বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শেষ পর্যন্ত ১৮২ রানেই থামে সফরকারীরা। জবাবে তৌহিদ হৃদয়ের অনবদ্য হাফ সেঞ্চুরিতে দুই ওভার হাতে রেখেই অনায়াস জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।
১৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের শুরুটা ছিলো বেশ ধীরস্থির। শুরুতেই সাইফ হাসানের (১৭) উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমও আজ ছন্দ খুঁজে পেতে লড়াই করছিলেন, ব্যাটে-বলে ঠিকঠাক সংযোগ ঘটাতে পারছিলেন না তিনি। অন্যপ্রান্তে লিটন দাস কয়েকটি দর্শনীয় বাউন্ডারি মেরে আশার আলো দেখালেও ইনিংস বড়ো করতে পারেননি। থিতু হওয়ার আগেই সাজঘরে ফেরেন লিটন (২১), তার পথ ধরেন তানজিদও (২০)।
তবে এরপরই দৃশ্যপট বদলে দেন তৌহিদ হৃদয় ২৭ বলে অপরাজিত ৫১ ও পারভেজ হোসেন ইমন ১৪ বলে ২৮ রানের এক ইনিংসে। এই জুটির মারকুটে ব্যাটিং ও আত্মবিশ্বাসী পদচারণায় খেই হারিয়ে ফেলে নিউজিল্যান্ড। ইমনের পর শামীম হোসেন মাঠে এসে যা করলেন, তাদের কিউইদের হার ছাড়া আর কোনো কিছু সামনে ছিলোনা। মাঠের চারদিকে বাউন্ডারি মেরে দলের ওপর থেকে চাপ সরিয়ে নেন শামীম। খেলেন মাত্র ১৩ বলে ৩১ রানের এক দানবীয় ইনিংস। ইমন প্রথম বল থেকেই চড়াও হন। চাপের মুখে কিউই পেসারদের অনভিজ্ঞতা ফুটে ওঠে স্পষ্টভাবে। লাইন-লেন্থ হারিয়ে তারা নিয়মিত ‘ফ্রিবি’ বা বাজে বল উপহার দিতে থাকেন, যার পূর্ণ ফায়দা তোলেন বাংলাদেশি ব্যাটাররা। শেষ পর্যন্ত অবিচল থেকে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তৌহিদ হৃদয়। দারুণ এক ফিফটি হাঁকিয়ে জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়েন এই মিডল অর্ডার ব্যাটার।
বোলারদের কামব্যাক আর ব্যাটারদের দায়িত্বশীলতায় দুই ওভার বাকি থাকতেই দাপটের সঙ্গে ছয় উইকেট জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
ম্যাচ শেষে নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক নিক কেলি বলেন, এই পিচে ১৮০ রান বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি স্কোর ছিলো। ইনিংসের মাঝামাঝি সময়ে আমাদের মনে হয়েছিলো যে, এটা প্রয়োজনের চেয়ে কিছুটা বেশি। সোধি তৃতীয় উইকেটটি নেওয়ার পর আমরা ভেবেছিলাম যে আমরা সুবিধাজনক অবস্থানে আছি। কিন্তু ওরা বেশ দৃঢ়তার সঙ্গে ব্যাট করেছে এবং নিজেদের শটগুলো খেলেছে। যখন কোনো ম্যাচ হারে, তখন সবসময়ই মনে হয় যে স্কোরটা কম ছিলো। ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার জন্য আমাদের হাতে আরও দুটি ম্যাচ আছে।
বিজয়ী অধিনায়ক লিটন কুমার দাস বলেন, খুব ভালো একটা ম্যাচ ছিলো, বিশেষ করে আমরা যেভাবে ব্যাটিং করেছি। হৃদয় এবং শামিম দুজনেই খুব ভালো ব্যাট করেছে। এই মাঠে ১৮৩ রান অনেক বড়ো একটা স্কোর। ইমন, হৃদয় এবং শামিম যেভাবে ব্যাটিং করেছে তা ছিলো অসাধারণ, যদিও কাজটা অতোটা সহজ ছিলো না, কিন্তু ওরা সত্যিই খুব ভালো ব্যাট করেছে। বল যখন নিচু হয়ে আসে, তখন খেলাটা সহজ হয় না।
আর প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ তৌহিদ হৃদয় বলেন, হ্যাঁ, ব্যাটিং করার জন্য এটা খুব ভালো ছিলো। আমি কিছুটা নার্ভাস ছিলাম এবং আমাদের আক্রমণাত্মক হওয়া দরকার ছিলো, আর আমরা সেটা করতে পেরেছি। শামিম অসাধারণ ব্যাটিং করেছে, ওর ব্যাটিং আমি উপভোগ করেছি।