রাশিয়ায় নিযুক্ত ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সোমবার ক্রেমলিনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। দুই দেশের প্রতিনিধি দলের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনা এবং দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা ইস্যুগুলো প্রাধান্য পায়।
বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠকে পুতিনের পাশে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ এবং দেশটির সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউ-এর প্রধান ইগর কস্তিউকভ উপস্থিত ছিলেন, যা এই আলোচনার সামরিক ও কৌশলগত গুরুত্বকে স্পষ্ট করে তোলে।
রুশ সংবাদ সংস্থা তাস জানিয়েছে, বৈঠকে প্রেসিডেন্ট পুতিন ইরানের জনগণের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, ইরানিরা তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করছে।
পুতিন আশা প্রকাশ করেন, ইরান এই কঠিন সময় কাটিয়ে দ্রুত শান্তির পথে ফিরে আসবে। মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরাতে রাশিয়া সম্ভাব্য সবকিছু করবে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা আপনাদের স্বার্থ এবং এই অঞ্চলের সকল মানুষের স্বার্থ রক্ষা হয় এমন সব পদক্ষেপ গ্রহণ করব।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি তেহরানের প্রতি মস্কোর অবিচল সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান ও রাশিয়ার মধ্যকার সম্পর্ক আগামীতে আরও শক্তিশালী হবে।
আমেরিকার ‘আগ্রাসনের’ বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে জানিয়ে আরাগচি বলেন, আমরা গোটা বিশ্বকে প্রমাণ করে দিয়েছি যে ইরান তার সাহস ও প্রতিরোধের মাধ্যমে মার্কিন হামলা মোকাবিলা করতে সক্ষম। একই সঙ্গে আমরা এটিও প্রমাণ করেছি, রুশ ফেডারেশনের মতো আমাদের অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও শক্তিশালী বন্ধু রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এক সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছেন। তিনি সরকারের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা কমিটি ‘কোবরা’-র একটি বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন বলে জানা গেছে। ল্যাঙ্কাশায়ারে এক অনুষ্ঠানে স্টারমার স্পষ্ট করে বলেন, আমি কখনোই এই দেশকে এমন কোনো যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে দেব না, যা আমাদের জাতীয় স্বার্থের অনুকূলে নয়।
স্টারমারের এই মন্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত যাতে বৈশ্বিক যুদ্ধে রূপ না নেয়, সে বিষয়ে পশ্চিমা শক্তিগুলোও এখন সতর্ক।
সামগ্রিকভাবে, মস্কোর এই বৈঠকটি ইরান ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক ও কূটনৈতিক মেরুকরণকে আরও স্পষ্ট করেছে। যখন একদিকে পশ্চিমা বিশ্ব সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে, তখন পুতিন ও আরাগচির এই আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।