লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে তিন মেয়েসহ এক মাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবককে গণপিটুনি দিলে তিনিও মারা যান। ফলে ঘটনাটিতে মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
নিহতরা হলেন শাহীনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেজো মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭) এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্তের নাম অন্তর মজুমদার। তিনি নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার কার্তিক মজুমদারের ছেলে এবং রায়পুরে ভ্রাম্যমাণ ফল ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাহীনুরের বাড়ি কুমিল্লায় হলেও দীর্ঘ ১২ থেকে ১৪ বছর ধরে তিনি রায়পুরে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। ২০১৯ সালে তার স্বামী কামাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যাওয়ার পর তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে তিনি ওই বাসাতেই থাকতেন।
বৃহস্পতিবার সকালে শাহীনুর ও তার তিন মেয়ের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক শাহীনুর, সায়মা ও শিফাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যায় ইকরা।
ঘটনার পর স্থানীয়রা অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারকে আটক করে গণপিটুনি দেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যমতে, ঘটনার সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে উত্তেজিত জনতার ছোড়া ইটপাটকেলে ৬ থেকে ৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।
পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক জানান, অন্তর মজুমদার প্রায় দেড় বছর ওই এলাকায় স্ত্রীসহ ভাড়া থাকতেন। সাত থেকে আট মাস আগে তিনি বাসা ছেড়ে চলে যান। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব পরিচয়ের সূত্রে তিনি ঘটনাস্থলে এসেছিলেন। তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম বলেন, হাসপাতালে পাঁচজনকে আনা হয়েছিল। এর মধ্যে মা ও দুই মেয়ে হাসপাতালে মারা যান। আরেক মেয়ে ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যায়। অভিযুক্ত ব্যক্তিকেও গুরুতর আহত অবস্থায় আনা হয়েছিল, পরে তারও মৃত্যু হয়।
ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নিতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।