আন্তর্জাতিক

জাপানে ৭.২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামির আশঙ্কা নেই

জাপানের উত্তর উপকূলে আঘাত হেনেছে রিখটার স্কেলে সাত দশমিক দুই মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই শক্তিশালী কম্পনের পরও কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি এবং বড়ো ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর মেলেনি। খবর আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এপি’র।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে অফিস ও স্কুলগামী মানুষের ব্যস্ত সময়ে জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর মৃদু কম্পন রাজধানী টোকিও পর্যন্ত কেঁপে উঠেছে।

জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) প্রথমে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছয় দশমিক ৯ নির্ধারণ করলেও পরে তা সংশোধন করে সাত দশমিক দুই বলে জানায়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থাও (ইউএসজিএস) ভূমিকম্পটির মাত্রা ছয় দশমিক ৯ বলে উল্লেখ করেছে। আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিলো ইওয়াতে অঞ্চলের পূর্ব উপকূলের ভূগর্ভের প্রায় ৫০ কিলোমিটার গভীরে।

ভূমিকম্পের পর পরই টোকিওতে এক জরুরি সাংবাদিক সম্মেলনে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেন, সরকারের জরুরি রেসপন্স টিম তথ্য পর্যালোচনা এবং যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে। সরকার সবসময় ‘মানুষের জীবনকে অগ্রাধিকার’ দিয়ে কাজ করছে। একই সঙ্গে তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের পরবর্তী কয়েকদিন আফটারশক বা অনুকম্পনের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

সরকারের শীর্ষ মুখপাত্র মিনোরু কিহারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক খোঁজখবর অনুযায়ী কোথাও কোনো বড়ো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এমনকি ২০১১ সালের প্রলয়ঙ্কারী ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ফুকুশিমা দাইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কিংবা আওমোরির ব্যবহৃত জ্বালানি পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রসহ অঞ্চলের কোনো পারমাণবিক স্থাপনায় কোনো ধরনের অস্বাভাবিকতা বা ত্রুটি দেখা দেয়নি।

জাপানের সরকারি টেলিভিশন এনএইচকে-র ফুটেজে দেখা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের সেন্দাই এবং মোরিওকাসহ বেশ কয়েকটি শহরের মানুষ স্বাভাবিকভাবেই যাতায়াত করছেন। তবে আওমোরি প্রিফেকচারের হাশিকামি শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ তোমোকো নাগানে জানান, ভূমিকম্পের সময় শিশুরা নিরাপদ থাকলেও অনেকে আতঙ্কে কেঁদে ফেলে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দিনের সব ক্লাস বাতিল করে শিশুদের নিরাপদে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে রেল পরিচালনাকারী সংস্থা ‘ইস্ট জাপান রেলওয়ে কোং’ জানিয়েছে, লাইনের নিরাপত্তা পরীক্ষার স্বার্থে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিছু বুলেট ট্রেন (শিনকানসেন) এবং স্থানীয় ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় বলয় বা ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলের ওপর অবস্থিত হওয়ায় জাপান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। এর আগে গত ডিসেম্বর মাসেও এই অঞ্চলে এক শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর সপ্তাহব্যাপী ‘মহাভূমিকম্প সতর্কতা’ জারি করা হয়েছিলো।

সাম্প্রতিক সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রীর বৈঠক, নদী ব্যবস্থাপনায় ঐকমত্য

Newsdesk

বিধ্বস্ত জনপদে নিহত বেড়ে ১৬৪, ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রাণের সন্ধানে উদ্ধারকারীরা

Newsdesk

গুগল এলার্টে ভেনেজুয়েলায় প্রাণ বাঁচল লাখো মানুষের!

Newsdesk