খেলাসর্বশেষ

তানজিদের প্রথম শতক, শান্তর অর্ধশতকে ডারউইনে বাংলাদেশের রাজত্ব

নামটা তানজিদ হাসান তামিম। নামের শেষ অংশটুকুই যেন ছোটবেলা থেকে তার সঙ্গে জুড়ে দিয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটের এক কিংবদন্তির ছায়া। বাঁহাতি ওপেনার, দ্রুত রান করার স্বভাব। তাই ব্যাট হাতে মাঠে নামার পর থেকেই তামিম ইকবালের সঙ্গে তুলনা শুনে আসছেন তিনি। এবার সেই তুলনার গণ্ডি পেরিয়ে নিজের নামেই ইতিহাস লিখলেন তানজিদ হাসান।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইন টেস্টের দ্বিতীয় দিনে পূর্ণ শক্তির অস্ট্রেলীয় বোলিং আক্রমণের সামনে খেললেন দারুণ ধৈর্য ও পরিণত এক ইনিংস। ১৮৮ বলে লং অফে সিঙ্গেল নিয়ে তুলে নিলেন টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। আর এতেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে সেঞ্চুরি করা প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার এখন তানজিদ।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সেঞ্চুরি করা ব্যাটারও ছিলেন মাত্র একজন। ২০০৬ সালে ফতুল্লায় ১৩৮ রানের ইনিংস খেলেছিলেন শাহরিয়ার নাফীস। ২০ বছর পর সেই তালিকায় যোগ হলো তানজিদের নাম। তার ১০১ রানের ইনিংসটি তাই শুধু ব্যক্তিগত প্রথম শতক নয়, বাংলাদেশের ক্রিকেটেরও বিশেষ এক মাইলফলক।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দিন থেকেই তানজিদকে দেখা গেছে অনেক বেশি সংযত। ওয়ানডেতে তার স্ট্রাইক রেট ১০০-এর ওপরে হলেও টেস্টের দ্বিতীয় ম্যাচেই বুঝিয়ে দিয়েছেন, পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী নিজের স্বাভাবিক আগ্রাসনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন তিনি। প্রথম দিন শেষে ৬৭ বলে ৩২ রান নিয়ে অপরাজিত ছিলেন।

এর আগে অবশ্য ভাগ্যও সঙ্গ দিয়েছে তাকে। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই জশ হ্যাজলউডের বলে শূন্য রানে জীবন পান তানজিদ। পয়েন্টে তার তুলে দেওয়া ক্যাচটি নিতে পারেননি নাথান লায়ন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে ইনিংস বড় করেছেন এই ওপেনার। দ্বিতীয় দিনের সকালে অবশ্য একটু একটু করে বদলেছে তার ব্যাটিংয়ের রং। ওয়েবস্টারকে ডাউন দ্য উইকেটে এসে লং অফের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে জানান দিয়েছেন, প্রয়োজন হলে আগ্রাসী তানজিদও ফিরে আসতে পারে। নাথান লায়নের বলে ৬২ রানে আবারও ভাগ্যের সহায়তা পান তিনি। প্রথম স্লিপে স্টিভেন স্মিথের হাতে লাগার পরও মাটিতে পড়েনি।

এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। প্যাট কামিন্সের বলে চার, এরপর একের পর এক আত্মবিশ্বাসী শটে এগিয়ে গেছেন শতকের দিকে। ১৮৮ বলে তিন অঙ্কে পৌঁছানোর পর আনন্দটাও ছিল বাঁধভাঙা। বাতাসে ঘুষি ছুড়ে উদযাপন শেষে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে গ্লাভসে গ্লাভস মিলিয়ে নেন তিনি।

এই তানজিদই অবশ্য ছোটবেলা থেকে শুনে এসেছেন অন্য এক তামিমের নাম। বাংলাদেশের ক্রিকেটের সাবেক তারকা তামিম ইকবাল যখন জাতীয় দলের বাঁহাতি ওপেনিংয়ের সবচেয়ে বড় নাম, তখনই বেড়ে উঠছিলেন বগুড়ার এই প্রতিভাবান ব্যাটার। স্বাভাবিকভাবেই তুলনাটা এসেছে। তবে তানজিদ সেই তুলনাকে কখনো বোঝা হিসেবে নেননি। ২০২৩ সালে ক্রিকইনফোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি পছন্দ করতাম যে আমার নাম তামিম ভাইয়ের মতো এবং আমিও তার মতো বাঁহাতি ব্যাট করি। আমিও ওপেনার। তবে আমার বাবা-মা তামিম ভাইয়ের নাম অনুসারে আমার নাম রাখেননি।’

এবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেই একই নামের সঙ্গে নতুন একটি পরিচয় যোগ করলেন তানজিদ। ২৫ বছর ২৫৬ দিন বয়সে পূর্ণ করা ১৮৮ বলের এই সেঞ্চুরি হয়তো তার টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম, কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেটে এর গুরুত্ব অনেক বড়।

সাম্প্রতিক সংবাদ

ইংল্যান্ডে লাইন থেকে ছিটকে গেল যাত্রীবাহী ট্রেন

Newsdesk

যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিতে বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম

Newsdesk

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তারেক রহমান ভারতে যেতে পারবেন না: নাহিদ

Newsdesk