অনুমতি ছাড়া দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা এবং সরকারি দায়িত্ব পালনে অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পুলিশের চার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করা এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ও তদন্ত শেষে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-১ শাখা থেকে পৃথক চারটি প্রজ্ঞাপন জারি করে বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনগুলোতে স্বাক্ষর করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।
বরখাস্ত হওয়া চার কর্মকর্তা হলেন- ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অতিরিক্ত ডিআইজি) সঞ্জিত কুমার রায়, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মানস কুমার পোদ্দার, রংপুরের সাবেক পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান এবং বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি সারদার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাফিজ আল ফারুক।
প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, সঞ্জিত কুমার রায় ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে অনুমোদন ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা, সরকারি আদেশ অমান্য এবং বিভাগীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়। বিভাগীয় তদন্তে তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। পরে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়া হয়।
মানস কুমার পোদ্দারের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অভিযোগ উঠে। তিনি ২০২৪ সালের ১৮ অক্টোবর থেকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয় এবং তদন্ত পরিচালিত হয়। তদন্ত শেষে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রংপুরের সাবেক পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান ছুটি শেষে নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগ দেননি। তিনি ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘদিন অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি সারদার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাফিজ আল ফারুক ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধেও বিভাগীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তদন্ত করা হয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকেও চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে, চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা ও তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। সংশ্লিষ্ট তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শ নেওয়া হয়। কমিশনের পরামর্শ এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পাওয়ার পর চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।