বাংলাদেশ

আনসার ও ভিডিপির সমাবেশে শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের গভীর দেশপ্রেম, নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলা মেনে চলার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে গ্রামে গ্রামে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবে সরকার, যার মধ্যে ৮০ শতাংশই হবেন নারী।

বুধবার (২০ মে) গাজীপুরের সফিপুরে আনসার ও ভিডিপি একাডেমি প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন।

একই সঙ্গে নিষ্ঠার সঙ্গে পেশাগত দায়িত্ব পালন করায় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের সমস্যা ও সঙ্কটের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে। নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব এবং গভীর দেশপ্রেমের মাধ্যমে এই বাহিনী ভবিষ্যতে একটি ‘প্রযুক্তিনির্ভর মানবিক সামাজিক বাহিনী’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে ‘চেইন অফ কমান্ড’ এবং ‘ডিসিপ্লিন’—এই দুটি বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই দুটি বিষয়ে সামান্যতম অবহেলা পরিলক্ষিত হলেও কোনো একটি বাহিনী সুশৃঙ্খল বাহিনী হয়ে উঠতে পারে না। কোনো বাহিনীর মধ্যে ডিসিপ্লিনের অভাব পরিলক্ষিত হলে তাদের সম্পর্কে জনমনে আস্থার সঙ্কটের সৃষ্টি হয়, এ বিষয়ে খেয়াল রাখা জরুরি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘ভিশন এবং সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা’ এই বাহিনীর ভবিষ্যৎ কার্যক্রমকে আরও দক্ষ এবং গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

শৃঙ্খলা, সাহস আর রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থার নীরব শক্তির প্রতীক এই বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ উপলক্ষে সফিপুর একাডেমি প্রাঙ্গণে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী প্রথমে শহীদ সদস্যদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে তিনি আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের চৌকস ব্যুত্থান মহড়া উপভোগ করেন এবং সুসজ্জিত প্যারেড গ্রাউন্ডে আকর্ষণীয় ও সুশৃঙ্খল কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন মঞ্চ থেকে রাষ্ট্রীয় সালাম গ্রহণ করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীর দরবারে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সরকার প্রধান।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে আনসার বাহিনীর গৌরবজনক ভূমিকা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, প্রায় ৪০ হাজার রাইফেল নিয়ে আনসার সদস্যরা স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন এবং বাহিনীর ৬৭০ জন সদস্য শহীদ হয়েছেন।

স্বাধীনতোত্তর বাংলাদেশে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী পদক্ষেপের অংশ হিসেবে গ্রাম ও নগরপর্যায়ে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে গঠিত গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) এবং আনসার বাহিনীকে একীভূত করে এই বাহিনীর কাঠামো আরও শক্তিশালী, দক্ষ এবং কার্যকর করা হয়েছিল। যা আজকের বহুমাত্রিক, জনসম্পৃক্ত ও গণপ্রতিরক্ষায় সক্ষম বাহিনীতে পরিণত করার ভিত্তি স্থাপন করেছে।

পরবর্তীতে খালেদা জিয়া সরকারের সময় ১৯৯৫ সালে ‘আনসার-ভিডিপি আইন’ প্রণয়নের মাধ্যমে এই বাহিনীকে স্বেচ্ছাসেবী কাঠামো থেকে একটি স্বতন্ত্র শৃঙ্খলা বাহিনীর মর্যাদা দেওয়া হয়, যা এই বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশে মাইলফলক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

২০২৪ সালের পাঁচ আগস্ট রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে দেশের সব থানা পাহারা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা সহায়তা প্রদানে এই বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। বর্তমানে ৪৭টি আনসার ব্যাটালিয়নের মধ্যে ১৬টি পার্বত্য চট্টগ্রামে নিয়োজিত এবং ৫২ হাজার অঙ্গীভূত আনসার সদস্য দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন। এছাড়া ১৩ হাজারেরও বেশি হিল আনসার ও হিল ভিডিপি সদস্য জাতিগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সম্প্রীতি জোরদারে কাজ করছেন। দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে পুরুষ ও মহিলা ভিডিপি প্লাটুন বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারী নির্যাতন মোকাবিলা ও মাদকবিরোধী কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে।

তৃণমূলভিত্তিক এই বাহিনীকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনীতে রূপান্তরের কাজ সরকার করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সঞ্জীবন প্রকল্পের’ মাধ্যমে গ্রামভিত্তিক উদ্যোক্তা সৃষ্টি, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক ও ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের মাধ্যমে জামানতবিহীন ঋণ প্রদান এবং কারিগরি ও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া ‘AVJOBS’ সফটওয়্যার ও AI application ব্যবহার করে দেশীয় ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রক্রিয়াধীন রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স নিয়ে বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্যোগকে তিনি সময়োপযোগী বলে আখ্যা দেন। মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ, ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, 6G ওয়েল্ডিংসহ আধুনিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে।

ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এই বাহিনীর সাফল্যের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, পরপর তিন বার বাংলাদেশ গেমসে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় ২০০৪ সালে বাহিনীটি ‘স্বাধীনতা পদক’ অর্জন করে। বর্তমান সরকার দেশের ১০টি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ৩৭৯ জন অঙ্গীভূত আনসার মোতায়েন করেছে। এছাড়া খেলোয়াড়দের বেতন কাঠামোর আওতায় আনতে প্রবর্তিত ‘স্পোর্টস কার্ড’ আনসার ভিডিপির ১৫ জন ক্রীড়াবিদকেও প্রদান করা হয়েছে।

কাঠামোগত উন্নয়নের অংশ হিসেবে ‘আনসার ব্যাটালিয়ন বিধিমালা, ২০২৬’, ‘ভিডিপি প্রবিধানমালা, ২০২৬’, ‘অঙ্গীভূত আনসার বিধিমালা, ২০২৬’ এবং ‘আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্য নিয়োগ ও পদোন্নতি বিধিমালা, ২০২৬’-এর খসড়া প্রণয়ন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে ‘উপজেলা আনসার প্রবিধানমালা ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার জন্য সদর দপ্তরে বায়োমেট্রিক উপস্থিতি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সংবাদ

সকালে পদোন্নতি বিকেলে প্রত্যাহার, পরদিন বরখাস্ত বিমানের সেই কর্মকর্তা

Newsdesk

হয়রানি বন্ধে আধুনিক ভূমি ব্যবস্থাপনা গড়ার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

Newsdesk

বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় দ্বিতীয় ঢাকা

Newsdesk