জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ভারতে আশ্রিত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের চিন্তা করছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ৭৮ বছর বয়সী হাসিনা নিজের এ ভাবনার কথা জানিয়েছেন।
শুক্রবার (১০ জুলাই) প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা আগামী ডিসেম্বর নাগাদ দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করার পরিকল্পনা করছেন। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ।
এছাড়া দলটির ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ।
বিতর্কিত ওয়ান-ইলেভেনের সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০০৮ সালের নির্বাচনে জিতে সরকার গঠনের পর প্রায় দেড় দশক ক্ষমতা আঁকড়ে ছিলেন শেখ হাসিনা।
গণতান্ত্রিক নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করে এত দীর্ঘ সময় রাষ্ট্র চালানোর সময় তার বিরুদ্ধে বিরোধীদের হত্যা, গুম, নির্বিচারে কারাবন্দি রাখা, নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ ওঠে।
জুলাই
ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ব্যাপক দমন-পীড়ন চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
২০২৪ সালের জুলাইয়ে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন দমনে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ব্যাপক দমন-পীড়ন শুরু করলে তা সরকার পতন আন্দোলনে রূপ নেয়।
এক পর্যায়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। তৎকালীন সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে চলে যান। তার সঙ্গে পালান আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মী এবং হাসিনার অনুগত পুলিশ-প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরাও।
পরে ওই গণঅভ্যুত্থান ঘিরে সংঘটিত সহিংসতার তদন্ত শেষে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তুলে ধরা হয় এবং সেই সংঘাতে অনেক শিশু-কিশোরসহ প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়। এই দমন-পীড়নে খোদ শেখ হাসিনাই সমন্বয়কারীর ভূমিকায় ছিলেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাসিনা জানান, তিনি ও তার দল আওয়ামী লীগের সদস্যরা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে যেতে চান। আদালতে আত্মসমর্পণ করে তারা দেখতে চান, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে তাদের কীভাবে মোকাবিলা করা হয়।
জুলাইয়ে নিহতের সংখ্যা নিয়ে আ.লীগের দাবি নাকচ, প্রকাশিত রিপোর্টেই অনড় জাতিসংঘ
জাতিসংঘে প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শিশু-কিশোরসহ প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হয়েছেন
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনা দেশে ফেরার পর গ্রেপ্তার ও প্রাণহানির আশঙ্কা করে বলেন, ‘তবুও আমাকে যেতেই হবে।’ কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির নেতা-কর্মীরা চরম নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
যদিও সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত অপরাধের সঙ্গে দল হিসেবে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে এবং এ কারণে তদন্ত চলছে।