আবাসিক গ্রাহকের বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬.৬৮ শতাংশ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। সর্বনিম্ন লাইফলাইন গ্রাহকের ১৫ শতাংশ, আর সর্বোচ্চ ১৯.৯৪ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়েছে। নতুন দর বিলিং মাস জুন থেকেই কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। বুধবার (৩ জুন) বিকেল ৩ টায় সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন তিনি।
আবাসিকের লাইফলাইন গ্রাহকের বর্তমান ইউনিটপ্রতি বিল ৪.৬৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫.৩২ টাকা করা হয়েছে। ৫০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহাকারী গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল মাসে ৩৫ টাকার মতো বেড়ে যাবে। আর আবাসিকে যারা ৬০০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহার করেন, তাদের বিল বাড়বে প্রায় ১ হাজার ৬৪৪ টাকা। আনুপাতিকহারে বাড়বে ভ্যাটের পরিমাণও।
আবাসিকে আরও ৬টি ধাপ রয়েছে। প্রথম ধাপে ৭৫ ইউনিট ব্যবহারকারির বিল ইউনিটপ্রতি ৫.২৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬.১৮ টাকা, দ্বিতীয় ধাপে ৭৬-২০০ ইউনিট পর্যন্ত ৭.২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮.৫০ টাকা, ২০১-৩০০ ইউনিট পর্যন্ত ৭.৫৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯.১০ টাকা ৩০১-৪০০ ইউনিট পর্যন্ত ৮.০২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯.৬২ টাকা, ৪০১-৬০০ ইউনিট ১২.৬৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫.০১ টাকা এবং সর্বশেষ ধাপ ৬০০ ইউনিটের ঊর্ধ্বে ব্যবহারকারিদের বিল ইউনিটপ্রতি ১৪.৬১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৭.৩৫ করা হয়েছে। উল্লিখিত দর নিম্নচাপ শ্রেণির গ্রাহকদের জন্য প্রযোজ্য, মধ্যম ও উচ্চচাপের গ্রাহকদের জন্য পৃথক দর নির্ধারণ করা হয়েছে।
মধ্যমচাপে (১১ কেভি) ৫০ কিলোওয়াট থেকে ৫ মেগাওয়াট পর্যন্ত গ্রাহকদের ফ্ল্যাট রেট ১০.৫৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২.৫০ টাকা, অফ-পিকআওয়ারে ৯.৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১.২৫ টাকা এবং পিকআওয়ারে (সান্ধ্যকালীন) ১৩.২৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫.৬২ টাকা টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে কৃষি সেচের (নিম্নচাপ) দর ইউনিটপ্রতি ৫.২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬.০৪ টাকা করা হয়েছে। সেচে মধ্যমচাপে (১১ কেভি) ফ্ল্যাট রেটে ৬.৪২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭.৩৮ টাকা, অফ-পিকে ৮.৬৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬.৬৪ টাকা, পিকে ৮.০৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯.২৩ টাকা করা হয়েছে।
সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী আদেশে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ৮.৫০ শতাংশ বাড়ানো হয়। একইসঙ্গে পাইকারি দর ৬.৭০ টাকা থেকে ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৭.০৪ টাকা করা হয়।