বাংলাদেশ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং আজ

বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরে নতুন এক মাইলফলক ছুঁতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) থেকে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে শুরু হচ্ছে পরমাণু জ্বালানি ইউরেনিয়াম লোডিং কার্যক্রম।

বিকেলে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে চুল্লিতে জ্বালানি প্রবেশের এই গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শুরু হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) কমিশনিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স পাওয়া যায়।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের আগে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। জ্বালানি লোডিংয়ের পর ধাপে ধাপে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হবে এবং আগামী আগস্টে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের আশা করা হচ্ছে।

চুল্লিতে জ্বালানি প্রবেশের পর তাপ উৎপন্ন হয়ে বাষ্প তৈরি করবে, যা টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হবে। রূপপুর প্রকল্পে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট নির্মাণ করছে রাশিয়ার প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট।

এই কার্যক্রমে উপস্থিত থাকবেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং রুশ পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ। এছাড়া আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত থাকবেন।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, জ্বালানি প্রবেশ থেকে শুরু করে পরীক্ষামূলক উৎপাদন এবং পূর্ণ সক্ষমতায় যেতে প্রায় ১০ মাস সময় লাগতে পারে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সময় স্বল্পতার কারণে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট উপস্থিত থাকতে পারছেন না। তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন জানান, প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং শেষ হতে প্রায় ৪৫ দিন সময় লাগবে। এরপর জুলাইয়ের শেষ বা আগস্টের শুরুতেই অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে। বছরের শেষ নাগাদ বা আগামী বছরের শুরুতে প্রথম ইউনিট থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।

 

 

১৯৬১ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্প স্বাধীনতার পর নতুন গতি পায় এবং ২০১১ সালে রাশিয়ার সঙ্গে আন্তরাষ্ট্রীয় চুক্তির মাধ্যমে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। বর্তমানে দুই ইউনিটের নির্মাণ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ দীর্ঘমেয়াদে সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব হলেও এর নিরাপত্তা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ সতর্কতা প্রয়োজন।

সাম্প্রতিক সংবাদ

ঢাকায় ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী

Newsdesk

সংরক্ষিত নারী আসনে ৪৯ বৈধ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ

Newsdesk

মেয়েদের স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষা বিনামূল্যে : প্রধানমন্ত্রীর

Newsdesk