বাংলাদেশ

‘৪০ কোটি হাত একসঙ্গে কাজ করলে বাংলাদেশ মর্যাদাশীল দেশ হবে’

হাতে হাত মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার আহাবন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আজকের এই খাল খনন অনুষ্ঠান থেকে প্রতিজ্ঞা করি, এই দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আমাদের হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত। এই ৪০ কোটি হাত একসঙ্গে কাজ করলে আমরা বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে একটি মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারবো।

শনিবার (১৬ মে) বেলা আড়াইটার দিকে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার ওয়ারুক বাজার এলাকায় খোর্দ্দ খাল পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন শেষে এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে তার সরকারের বড়ো পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ আছে, সরকার তা আরও বৃদ্ধি করতে চায়, যাতে খাদ্যের জন্য কোনো মানুষকে কষ্ট পেতে না হয়। বাংলাদেশের মাটি এতো উর্বর যে, সময়মতো সেচ দিতে পারলে ভালো ফসল উৎপাদন সম্ভব। নির্বাচনের পূর্বে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই খাল খননের মধ্য দিয়ে কৃষক ভাইরা উপকৃত ও স্বাবলম্বী হবেন এবং কৃষকদের উন্নতি হলে এ দেশের অর্থনীতি মজবুত হবে।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ায় জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, এবার দেশকে পুনর্গঠন করতে হবে। বিগত দেড় দশকে দেশের অর্থ পাচার করে অর্থনীতি ফোকলা করে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দক্ষতা নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে এবং উন্নয়নের নামে অর্থ লুট করা হয়েছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে খাল কাটা কর্মসূচি সফল হলে গ্রামীণ মানুষের পাশাপাশি শহরের মানুষও উপকৃত হবে। বিএনপি মূলত সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের উপকারের ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি করে।

ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সজাগ থাকার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, গত ১২ তারিখের নির্বাচনে মানুষ বিএনপির পক্ষে রায় দিয়েছে। মানুষের সমর্থন নিয়েই সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে বিএনপি। তবে বিভিন্ন জায়গা থেকে কিছুসংখ্যক মানুষ বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। সবাইকে সজাগ থাকতে হবে, যাতে বিএনপির কর্মসূচিতে কেউ বাধা দিতে না পারে। কেউ বাধা দিলে দেশের মানুষই সেই ষড়যন্ত্র ভেস্তে দেবে। তিনি সবাইকে বিভ্রান্তকারীদের ফাঁদে পা না দেওয়ার আহবান জানান।

ফ্যামিলি কার্ড সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটিও নির্বাচনের পূর্বের প্রতিশ্রুতি ছিলো। এর মাধ্যমে প্রতি মাসে একজন মা আড়াই হাজার টাকা পাবেন, যা দিয়ে পরিবারের সন্তানদের যত্ন ও স্বাস্থ্যসেবার কাজে লাগাতে পারবেন। অন্তর্বর্তী সরকারের বাজেট থেকে এই কার্ড দেওয়া হচ্ছে এবং আগামী বাজেটে এই বরাদ্দ আরও বৃদ্ধি করে নারীদের স্বাবলম্বী করা হবে।

নারীদের শিক্ষার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া পূর্বে নারীদের শিক্ষার উন্নয়নে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত মেয়েদের বিনামূল্যে পড়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। বর্তমান সরকার স্নাতক (পাস কোর্স) পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়ার ব্যবস্থা করবে এবং এর মধ্যে যারা মেধাবী, তাদেরকে সরকারের পক্ষ থেকে উপবৃত্তি দেওয়া হবে। নারীদের স্বাবলম্বী না করে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব না।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকারের প্রতিশ্রুতি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন এবং তরুণ সমাজকে শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত করে বিদেশে যাওয়ার ব্যবস্থা ও দেশে তাদের কর্মসংস্থান তৈরি করা—যদি এগুলো আমরা করতে পারি, তাহলেই শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা দেওয়া সম্ভব হবে।

চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মমিনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হক দুলু, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সলিম উল্যাহ সেলিম এবং শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আয়াত আলী ভুঁইয়াসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

সাম্প্রতিক সংবাদ

কুমিল্লাকে বিভাগ করার আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী

Newsdesk

২২ বছর পর চাঁদপুর যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

Newsdesk

জ্বালানি সহযোগিতায় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা স্মারক সই

Newsdesk