ফুটবল ইতিহাসের বৃহত্তম আয়োজনের পর্দা উঠতে আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা। ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে ফুটবল ভক্তদের উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে ফিফা ঘোষণা করেছে, তিন আয়োজক দেশ- মেক্সিকো, কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম ম্যাচের আগে আলাদা তিনটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে। বর্ণাঢ্য এই আয়োজনে বিশ্বের নামী তারকাদের পাশাপাশি পারফর্ম করবেন বাংলাদেশি-আমেরিকান ডিজে সঞ্জয়।
আগামী ১২ জুন মেক্সিকো সিটিতে অনুষ্ঠিত হবে প্রথম উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। মেক্সিকোর সংস্কৃতিকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে এই আয়োজনে পারফর্ম করবে গ্র্যামি জয়ী জনপ্রিয় পপ ব্যান্ড ‘মানা’। তাদের সাথে মঞ্চ মাতাবেন আলেজান্দ্রো ফার্নান্দেজ এবং বেলিন্ডা। ফিফা জানিয়েছে, এই কনসার্টে মেক্সিকোর আদিবাসী সংস্কৃতি এবং আধুনিক লোকজ ঐতিহ্যের এক চমৎকার সংমিশ্রণ দেখা যাবে।

১৩ জুন কানাডার টরন্টোতে বসবে দ্বিতীয় আসর। এখানে কানাডার উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। এই অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকছেন অ্যালানিস মরিসেট, মাইকেল বুবলে এবং অ্যালেসিয়া কারা। তবে দক্ষিণ এশীয় ফুটবল ভক্তদের জন্য সবচেয়ে বড় খবর হলো, লস অ্যাঞ্জেলেস ভিত্তিক জনপ্রিয় বাংলাদেশি-আমেরিকান ডিজে সঞ্জয় এই অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন।
কানাডার বৈচিত্র্য এবং সাম্যকে তুলে ধরতে ফিফা এখানে বিশ্বকাপের ট্রফিকে এক নতুন ‘মোজাইক’ রূপে উপস্থাপন করার পরিকল্পনা করেছে।
১৩ জুন পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবে তৃতীয় উদ্বোধনী আসর। যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হবে প্যারাগুয়ে। আমেরিকান পপ সেনসেশন কেটি পেরি এই অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ। তাঁর সাথে থাকছেন বিখ্যাত র্যাপার ফিউচার, আনিত্তা, লিসা, রেমা এবং টাইলার মতো আন্তর্জাতিক তারকারা।

ফিফা দাবি করেছে, এই কনসার্টটি হবে উচ্চ-শক্তির এক বিশাল প্রদর্শনী, যা টুর্নামেন্টের আকার এবং সাংস্কৃতিক শক্তির প্রতিফলন ঘটাবে।
ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয়বার যেখানে একাধিক দেশ মিলে যৌথভাবে আসরটি আয়োজন করছে। এর আগে ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপান যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল, যদিও সেবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়েছিল কেবল দক্ষিণ কোরিয়ায়। তবে এবার ফিফা তিন দেশেই আলাদা উৎসবের মাধ্যমে ফুটবলকে বিশ্বজনীন রূপ দিতে চাইছে।
তিনটি ভিন্ন সংস্কৃতি, ভিন্ন সুর আর বিশ্বসেরা তারকাদের উপস্থিতিতে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল কেবল মাঠের লড়াই নয়, বরং এক মহামিলন মেলায় পরিণত হতে যাচ্ছে। আর সেই বৈশ্বিক মঞ্চে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সঞ্জয়ের উপস্থিতি বাঙালি ফুটবল প্রেমীদের জন্য এক বাড়তি গর্বের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন দেখার বিষয়, মাঠের ফুটবলের সাথে এই গ্ল্যামারের লড়াই কতটা জমে ওঠে।