ব্যাবসা-বাণিজ্য

এবারও হরমুজ পাড়ি দিতে পারল না ‘বাংলার জয়যাত্রা’

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণার পর হরমুজ প্রণালি পাড়ি দেওয়ার যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানি বাহিনীর অনুমতি না পাওয়ায় জাহাজটি আবারও পারস্য উপসাগরের নিরাপদ অবস্থানে ফিরে যাচ্ছে।

শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) রাত পৌনে একটায় জাহাজের ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম খান গণমাধ্যমকে জানান, হরমুজ অতিক্রমের উদ্দেশ্যে তারা যাত্রা শুরু করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত অনুমতি না মেলায় ফেরত আসতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা শুনে আমরা শুক্রবার রাতে হরমুজ পাড়ি দিতে রওনা হয়েছিলাম। তবে ইরানের বাহিনী জাহাজটি হরমুজ পার হওয়ার অনুমতি দেয়নি। জাহাজটি ফেরত নেওয়ার নির্দেশনা পাওয়ার পর আমরা আগের জায়গায় অর্থাৎ পারস্য উপসাগরে ফেরত যাচ্ছি।’

এর আগে বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছিলেন, পারস্য উপসাগর থেকে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ১১টা ৫০ মিনিটে এমভি বাংলার জয়যাত্রা হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করে। ধারণা করা হচ্ছিল, রাত তিনটার মধ্যে এটি প্রণালি অতিক্রম করতে পারবে।

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ সংস্থা মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, ইরান বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ার পর পারস্য উপসাগরে অবস্থানরত শত শত জাহাজ দ্রুত হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হতে শুরু করে। সেই বহরের সামনের দিকেই ছিল বাংলাদেশের জাহাজটি। তবে রাত পৌনে একটার দিকে পরিস্থিতি বদলে গিয়ে সব জাহাজই আবার পারস্য উপসাগরের দিকে ফিরে যেতে থাকে, যার মধ্যে বাংলার জয়যাত্রাও রয়েছে।

উল্লেখ্য, এমভি বাংলার জয়যাত্রা গত ২ ফেব্রুয়ারি থেকে পারস্য উপসাগরে অবস্থান করছিল। ১১ মার্চ জাহাজটি ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও অনুমতি না পাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। পরে যুদ্ধবিরতি শুরুর পর দ্বিতীয়বার অনুমতি চাইলেও সেটিও প্রত্যাখ্যান করা হয়।

অনুমতি না মেলায় জাহাজটি সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে প্রায় ৩৭ হাজার টন সার বোঝাই করে পারস্য উপসাগরেই নোঙর ফেলে অপেক্ষায় ছিল।

এর আগে গত সপ্তাহে বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছিলেন, জাহাজে থাকা ৩১ জন নাবিকের জন্য পর্যাপ্ত খাবার মজুত রয়েছে এবং সবাই সুস্থ ও নিরাপদ আছেন। জাহাজটি প্রতিদিন ১৮ টন সামুদ্রিক পানি পরিশোধন করতে সক্ষম হলেও এর জন্য ইঞ্জিন পূর্ণ ক্ষমতায় চালু রাখতে হয়। পরে পানির ব্যবহার রেশনিং করে দৈনিক ৬ টনে নামিয়ে আনা হয়।

তিনি আরও জানান, নাবিকদের মনোবল ধরে রাখতে দৈনিক খাবারের বরাদ্দ জনপ্রতি ৭ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২ ডলার করা হয়েছে। পাশাপাশি বেসিক বেতনের সমপরিমাণ ‘ওয়ার অ্যালাউন্স’ও প্রদান করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সংবাদ

দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৫ বিলিয়ন ডলার

Newsdesk

জ্বালানি তেল নিয়ে ৩ জাহাজ পৌঁছাল চট্টগ্রাম বন্দরে

Newsdesk

জ্বালানি সংকটে ইস্টার্ন রিফাইনারি বন্ধ ঘোষণা

Newsdesk