আন্তর্জাতিকসর্বশেষ

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলকে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার সতর্কবার্তা দিল ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের উপস্থিতি নিয়ে কঠোর অবস্থান জানিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) অঞ্চলটি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে সরে যাওয়ার সতর্কবার্তা দিয়েছে।

আইআরজিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ‘জঘন্য ও অপরাধমূলক উপস্থিতি’ থেকে মুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। এমন এক সময়ে এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হলো, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা আবারও বাড়ছে।

ইরানের সামরিক কর্তৃপক্ষ এর আগে জানিয়েছে, দেশটির ওপর নতুন করে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থকে লক্ষ্য করে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এতে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত মাইক ওয়াল্টজ বলেছেন, ইরান যাতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তবে তেহরান আন্তরিকভাবে আলোচনায় ফিরতে চাইলে কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনো খোলা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদির দাবি, ইরানি বাধার কারণে ইরাকের তেলবাহী ট্যাংকারগুলো ওই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে চলাচলের অনুমতি পাচ্ছে না। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এতে ইরাক প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব হারিয়েছে এবং দেশটির মাসিক রপ্তানি আয় প্রায় ৬০ শতাংশ কমেছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি হরমুজ প্রণালি। শান্তিকালীন সময়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস এ পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে যায়। ফলে সেখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাজারে তার প্রভাব পড়তে পারে।

ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে নতুন পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ২৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ইরানের বিমান সংস্থাগুলোর কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

ইরানি এয়ারলাইনগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর, জ্বালানি সরবরাহকারীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

তবে মার্কিন ঘোষণার পরও ইরানের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা ইরান এয়ার তেহরান, মাশহাদ ও ইসফাহান থেকে ইরাকের নাজাফে ফ্লাইট পরিচালনা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে। এতে নিষেধাজ্ঞার তাৎক্ষণিক প্রভাব এবং ইরানের বিমান চলাচল খাতের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে ইরানের বিমান চলাচল খাতের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য, তেহরানের অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর চাপ বাড়ানোই এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্য।

সামরিক চাপ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির পাশাপাশি ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়েও কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। তবে আঞ্চলিক দেশগুলোর ওপর সংঘাতের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ এখনো অব্যাহত রয়েছে।

সাম্প্রতিক সংবাদ

জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী

Newsdesk

শেখ আহমেদ বিন রশিদের মৃত্যু, দুবাইয়ে ১০ দিনের শোক ঘোষণা

Newsdesk

২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ইরানের সব এয়ারলাইনস বন্ধের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

Newsdesk