আন্তর্জাতিক

যুদ্ধ বন্ধে ইঞ্চি দূরত্বে দাঁড়িয়ে আমেরিকা ও ইরান

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিরসনে একটি সীমিত এবং সাময়িক চুক্তির পথে দুই দেশ এগোচ্ছে বলে বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট সূত্র ও কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। এই সম্ভাব্য সমঝোতাকে একটি দীর্ঘমেয়াদী শান্তি চুক্তির বদলে ‘অন্তর্বর্তীকালীন পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য হলো যুদ্ধ থামানো এবং বিশ্ব অর্থনীতির ওপর থেকে চাপের বোঝা কমানো। খবর রয়টার্সের।


ওয়াশিংটন ও তেহরান বর্তমানে একটি এক পাতার সংক্ষিপ্ত ‘সমঝোতা স্মারক’ নিয়ে কাজ করছে। প্রস্তাবিত খাসড়া অনুযায়ী তিনটি ধাপে শান্তি প্রক্রিয়া এগোবে, প্রথমত আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করা, দ্বিতীয়ত হরমুজ প্রণালী নিয়ে চলমান সংকটের সমাধান এবং তৃতীয়ত আগামী ৩০ দিনের মধ্যে অন্যান্য জটিল বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার একটি জানালা উন্মুক্ত করা। যদিও পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ইউরেনিয়াম মজুতের মতো বিষয়গুলো এই মুহূর্তে অমীমাংসিত থেকে যাচ্ছে, তবে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মতে, প্রধান অগ্রাধিকার হলো যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তি ঘোষণা করা।


ট্রাম্পের আশাবাদ ও ইরানের সংশয়: 
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে বেশ আশাবাদী। তিনি হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, একটি চুক্তি হওয়া অত্যন্ত সম্ভব এবং এটি দ্রুত সম্পন্ন হতে পারে। তবে ইরান এই বিষয়ে কিছুটা সতর্ক ও সন্দিহান।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা যথাসময়ে প্রতিক্রিয়া জানাবেন। অন্যদিকে, ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবাফ এবং অন্যান্য আইনপ্রণেতারা এই আলোচনাকে ‘আমেরিকার ইচ্ছার তালিকা’ বলে অভিহিত করেছেন এবং সমঝোতা নিয়ে ছড়ানো খবরগুলোকে মার্কিন প্রচারণার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।


বৈশ্বিক অর্থনীতি ও তেলের বাজারে প্রভাব: 
সম্ভাব্য চুক্তির খবরে বিশ্ববাজারে ইতিমধ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বুধবার অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১১ শতাংশ কমেছে এবং বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেল প্রায় ৯৮ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে। এর পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশায় বিশ্বজুড়ে শেয়ার বাজারের সূচকগুলোও রেকর্ড উচ্চতার দিকে এগোচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির বিষয়বস্তু সংক্ষিপ্ত হলেও সামরিক সংঘাত আর বাড়বে না, এমন প্রত্যাশাই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়েছে।

আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সামরিক কৌশল: শান্তি আলোচনার অগ্রগতির দোহাই দিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীতে শুরু করা তাঁর দুই দিনের নৌ-অভিযান স্থগিত করেছেন। তবে এনবিসি নিউজের খবর অনুযায়ী, এই স্থগিতাদেশের পেছনে সৌদি আরবের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। রিয়াদ তাদের আকাশপথ বা সামরিক ঘাঁটি মার্কিন অভিযানের জন্য ব্যবহারের অনুমতি না দেয়ায় ট্রাম্পকে পিছু হটতে হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে, লেবাননের বৈরুতে ইসরাইলি বিমান হামলা এবং হিজবুল্লাহ কমান্ডারের মৃত্যু নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে, যা ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার এই বৃহত্তর শান্তি প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।


অমীমাংসিত বড় ইস্যুগুলো: 
সূত্রগুলো জানিয়েছে যে, বর্তমান সংক্ষিপ্ত নথিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা মধ্যপ্রাচ্যে হিজবুল্লাহর মতো প্রক্সি মিলিশিয়াদের সমর্থনের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট শর্ত রাখা হয়নি। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, ইরানের হাতে থাকা ৪০০ কেজির বেশি উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে এই প্রাথমিক সমঝোতায় কোনো উল্লেখ নেই। অর্থাৎ, বড় ধরণের কোনো স্থায়ী চুক্তির আগে দুই পক্ষ কেবল পরিস্থিতি শান্ত রাখার জন্য একটি ‘যুদ্ধ বিরতি’র ফর্মুলাকেই বেছে নিচ্ছে।

সার্বিকভাবে, আমেরিকা ও ইরান এখন একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম কূটনৈতিক অবস্থানে রয়েছে। এই ৩০ দিনের আলোচনার উইন্ডো শেষ পর্যন্ত একটি টেকসই শান্তি চুক্তিতে রূপ নেয় নাকি এটি কেবল সামরিক প্রস্তুতির একটি সাময়িক বিরতি হিসেবে থেকে যায়, তা এখন সময়ের অপেক্ষা।

সাম্প্রতিক সংবাদ

তামিলনাড়ুতে সরকার গঠন নিয়ে স্নায়ুযুদ্ধে রাজ্যপাল ও বিজয়

Newsdesk

যুদ্ধ শেষ করতে প্রস্তুত ইরান, তবে আপস নয়

Newsdesk

রাষ্ট্রপতির শাসন জারি হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে

Newsdesk