১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর যাত্রা শুরু করা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি আজ ৪৮ বছরে পা দিয়েছে। প্রায় পাঁচ দশকের এই পথচলায় দলটি কখনো রাষ্ট্রক্ষমতায়, কখনো বিরোধী দলে, আবার কখনো কঠিন রাজনৈতিক সংকট ও দমন-পীড়নের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। দীর্ঘ এই রাজনৈতিক যাত্রায় বিএনপির অর্জনের তালিকায় যেমন রয়েছে রাষ্ট্র পরিচালনা, বহুদলীয় রাজনীতির পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনে নেতৃত্ব এবং সাংগঠনিকভাবে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হওয়া; তেমনি রয়েছে রাজনৈতিক সংঘাত, নির্বাচন ও গণতন্ত্র নিয়ে বিতর্ক, সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং নেতৃত্বের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার মতো নানা প্রশ্ন।
৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এমন এক সময়ে এসেছে, যখন বিএনপি অতীতের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পর আবারও রাষ্ট্রক্ষমতায়। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দলটি সরকার গঠন করে এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হয়। ফলে এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শুধু অতীতের অর্জন স্মরণের উপলক্ষ নয়; বরং ক্ষমতায় থেকে বিএনপি তার রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়ন করতে পারে, সেটিও এখন বড় প্রশ্ন।
যে লক্ষ্য নিয়ে জন্ম
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, জাতীয় ঐক্য, বহুদলীয় গণতন্ত্র, জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব এবং অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার ধারণাকে সামনে রেখে দলটির রাজনৈতিক দর্শনের ভিত্তি তৈরি হয়।
জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচিতে কৃষি ও খাদ্য উৎপাদন, গ্রামীণ উন্নয়ন, প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ, আত্মনির্ভরশীলতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের মতো বিষয় গুরুত্ব পায়। পরবর্তী সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপির রাজনৈতিক দর্শনে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়। ২০১৬ সালের ‘ভিশন-২০৩০’ এবং পরে তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা সেই ধারাকে আরও বিস্তৃত করে। ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারেও ১৯ দফা, ভিশন-২০৩০, ৩১ দফা এবং জুলাই জাতীয় সনদের সমন্বয়ের কথা বলা হয়েছে।
৪৮ বছরে কী পেয়েছে বিএনপি?
বিএনপির সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটি হলো বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করা। দলটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জাতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়। জিয়াউর রহমানের পর বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দলটি একাধিকবার সরকার পরিচালনা করেছে। বিশেষ করে ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের পর সংসদীয় গণতন্ত্রের নতুন অধ্যায় শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনেও দলটি রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রীয় শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখে।
বিএনপির আরেকটি বড় রাজনৈতিক অর্জন ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন। আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এরশাদ সরকারের পতন ঘটে এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হয়। বিএনপি ও বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা এই আন্দোলনের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।
দলটির রাজনৈতিক সাফল্যের আরেকটি দিক হলো দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থেকেও সাংগঠনিক অস্তিত্ব ধরে রাখা। ২০০৬ সালের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন, ১/১১-এর পরবর্তী সময়, পরবর্তী সরকারের সময়ে মামলা, গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক আন্দোলনের নানা পর্যায় পেরিয়ে বিএনপি টিকে থাকে। দলটির দাবি, এই সময়ে তাদের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী মামলা, নির্যাতন, গ্রেপ্তার ও নানা রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন।
সবশেষে ২০২৬ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপির রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন দলটির ৪৮ বছরের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় তৈরি করেছে। প্রায় দুই দশক পর ক্ষমতায় ফিরে আসা দলটির জন্য যেমন বড় রাজনৈতিক অর্জন, তেমনি এটি বড় দায়িত্বেরও সূচনা।
তবে অর্জনের সঙ্গে বিতর্কও আছে
বিএনপির ইতিহাসকে শুধু অর্জনের আলোয় দেখলে পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। দলটির দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় নানা বিতর্কও রয়েছে। নির্বাচন, রাজনৈতিক সহিংসতা, সংসদীয় রাজনীতির সংকট, বিরোধী দলের সঙ্গে সম্পর্ক এবং দুর্নীতির অভিযোগ—এসব প্রশ্নে বিএনপিকে বিভিন্ন সময়ে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে।
একটি বড় প্রশ্ন হচ্ছে রাজনৈতিক সংস্কৃতি। বাংলাদেশের বড় দুই দলের মধ্যে দীর্ঘদিনের পাল্টাপাল্টি আন্দোলন, সংঘাত ও অবিশ্বাস দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করেছে—এমন অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে উঠেছে। ফলে বিএনপি এখন রাষ্ট্র পরিচালনায় এসে শুধু প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করলেই হবে না; রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও পরিবর্তনের উদাহরণ তৈরি করতে হবে।
ক্ষমতায় এসে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অর্থনীতি
বিএনপির সামনে এখন সবচেয়ে বড় বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলোর একটি অর্থনীতি। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিনিয়োগের সংকট, কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং বৈদেশিক অর্থনীতির চাপ—সবকিছু মিলিয়ে নতুন সরকারের সামনে বড় দায়িত্ব রয়েছে।
বিশেষ করে তরুণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান বড় পরীক্ষা। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি এবং সামাজিক নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কর্মসূচিতে এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগের কথাও বলা হয়েছে।
কিন্তু প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নে যাওয়া সহজ হবে না। মানুষের প্রত্যাশা এখন অনেক বেশি। দ্রুত কর্মসংস্থান, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সরকারি সেবার মান উন্নত করতে না পারলে জনপ্রিয়তার ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।
রাষ্ট্র সংস্কার: সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা
বিএনপির সামনে দ্বিতীয় বড় চ্যালেঞ্জ রাষ্ট্র সংস্কার। ৩১ দফায় নির্বাচনব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, প্রশাসন, সংসদ, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার বিভিন্ন প্রস্তাব রয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারেও এসব সংস্কার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু এখানেই বিএনপির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। বিরোধী দলে থাকাকালে যে সংস্কারের দাবি করা হয়েছে, ক্ষমতায় থেকে সেগুলো বাস্তবায়ন করা তুলনামূলকভাবে কঠিন। কারণ সংস্কার মানে শুধু আইন পরিবর্তন নয়; রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রভাবের বাইরে রেখে কার্যকর করা।
নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সংসদের কার্যকারিতা—এসব ক্ষেত্রে বিএনপি কী দৃষ্টান্ত স্থাপন করে, তা ভবিষ্যতে দলটির রাজনৈতিক মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হবে।
দলীয় শৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও চ্যালেঞ্জ
দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা একটি দল ক্ষমতায় এলে নেতা-কর্মীদের প্রত্যাশা দ্রুত বেড়ে যায়। পদ-পদবি, সরকারি সুযোগ-সুবিধা, স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার এবং বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক চাপ তৈরি হতে পারে। বিএনপিকে তাই দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি নেতা-কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, দখল, টেন্ডারবাজি বা প্রশাসনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠলে তা সরকারের ভাবমূর্তির জন্য বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া বিএনপির জন্য তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা
আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ নতুন প্রজন্ম। তরুণরা শুধু রাজনৈতিক স্লোগান নয়—কাজ, শিক্ষা, দক্ষতা, প্রযুক্তি, উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ এবং নিরাপদ ভবিষ্যৎ চায়। বিএনপি যদি তরুণদের জন্য কার্যকর কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করতে পারে, তাহলে দলটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হতে পারে।
অন্যদিকে তরুণদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে রাজনৈতিক পরিবর্তনের যে আকাঙ্ক্ষা ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানসহ সাম্প্রতিক সময়ের রাজনীতিতে সামনে এসেছে, সেটিই সরকারের বিরুদ্ধে চাপ তৈরি করতে পারে।
পররাষ্ট্রনীতিতেও ভারসাম্যের পরীক্ষা
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিও নতুন সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। একই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক কূটনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক অবস্থানের কারণে এ ক্ষেত্রে কোনো একক শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা না করে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি প্রয়োজন হবে।
বিএনপি নেতাদের চোখে ৪৮ বছরের পথচলা
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিএনপি দেশের মানুষের অধিকার, গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে স্বৈরতন্ত্রের বিদায়ের পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ ও বাকশালের বাইরে একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক শক্তির প্রয়োজনীয়তা যখন প্রকট হয়ে উঠেছিল, তখন বিএনপি সেই রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অতীতের অভিজ্ঞতা ও ইতিহাসের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় তিনি বিশ্বাস করেন, ভবিষ্যতেও বিএনপি শুধু জনগণের পাশে থাকবে না, বরং দেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা এবং একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করবে।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, বিএনপি যে আদর্শ ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, ৪৮ বছর পরও দলটি সেই পথেই এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, রক্তাক্ত মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই ছিল বিএনপি প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য। দেশের স্বার্থ ও সম্মানকে প্রাধান্য দিয়ে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা এবং কৃষি, শিল্প, শিক্ষা ও অর্থনীতিসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জনগণের মতামতের ভিত্তিতে নির্ধারণের লক্ষ্যও ছিল দলটির। ১৯ দফা, ভিশন-২০৩০ এবং তারেক রহমানের ২৭ দফা, পরবর্তীতে ৩১ দফার মধ্য দিয়ে বিএনপি সেই আদর্শ ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
বিএনপির সামনে থাকা চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে আলাল বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার রেখে যাওয়া প্রভাব এখনো প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, শিক্ষাঙ্গন, রাজনীতি ও সাংবাদিকতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে রয়েছে। এসব বিষয়ে সতর্ক থাকার পাশাপাশি তরুণ ও যুবকদের মধ্য থেকে নতুন নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে, যাতে দেশে আর গণতন্ত্রহীন পরিস্থিতি তৈরি না হয়।
তিনি বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বিএনপির সামনে বড় পরীক্ষা তৈরি করেছে। সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
সরকারের বয়স মাত্র ছয় মাস উল্লেখ করে তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া সমস্যা ও জঞ্জাল পরিষ্কার করতেই অনেক সময় চলে যাচ্ছে; ধীরে ধীরে এসব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে।
বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মো: রহমাতুল্লাহ বলেন, বিএনপির নির্যাতিত, নিপীড়িত ও দীর্ঘদিনের বঞ্চিত নেতাকর্মীদের প্রতি সরকারের বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া উচিত। তাদের বৈধভাবে প্রতিষ্ঠিত ও স্বচ্ছলভাবে জীবনযাপনের সুযোগ তৈরি করতে সরকারি দায়িত্বশীলদের ভূমিকা রাখতে হবে। একই সঙ্গে নেতাকর্মীদেরও শৃঙ্খলা বজায় রেখে সরকারের কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে হবে এবং কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়মে জড়ানো যাবে না। দল ও দেশের স্বার্থে দায়িত্বশীল আচরণই সবার প্রত্যাশা।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন একটাই
৪৮ বছরে বিএনপি অনেক কিছু পেয়েছে—রাষ্ট্রক্ষমতা পেয়েছে, বিরোধী দলের নেতৃত্ব দিয়েছে, আন্দোলন করেছে, রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলা করেছে এবং দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। কিন্তু ৪৮ বছরের সবচেয়ে বড় অর্জন ও সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন একই জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে—ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহার করা হবে।
এবার বিএনপির সামনে শুধু সরকার পরিচালনার সুযোগ নয়, নিজেদের রাজনৈতিক দর্শন বাস্তবে প্রয়োগের সুযোগও এসেছে। ১৯ দফা, ভিশন-২০৩০, ৩১ দফা কিংবা নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলো কতটা বাস্তবায়িত হয়, তার ওপর নির্ভর করবে আগামী দিনের বিএনপির মূল্যায়ন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে অতীতের সাফল্য উদ্যাপন করা সহজ। কিন্তু ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লেখা কঠিন। বিএনপির সামনে এখন সেই কঠিন কাজটিই—রাষ্ট্রকে কতটা কার্যকর, গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব করা যায়।
অর্থাৎ ৪৮ বছরে বিএনপি কী পেয়েছে—তার উত্তর ইতিহাসে রয়েছে। কিন্তু আগামী কয়েক বছর বিএনপি কী দেবে—সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।