ম্যাকাই টেস্টের প্রথম ইনিংসে ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। মিচেল স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে শুরু থেকেই একের পর এক উইকেট হারিয়েছে সফরকারীরা। ১০ ওভারে ৬ মেডেনসহ মাত্র ১২ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়েছেন স্টার্ক। প্যাট কামিন্স শিকার করেছেন ৩ উইকেট, জশ হ্যাজলউড নিয়েছেন একটি।
টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠানোর পর ম্যাচের প্রথম বলেই আঘাত হানেন স্টার্ক। বল ব্যাটের কানায় লেগে ক্যামেরন গ্রিনের হাতে ক্যাচ দেন সাদমান ইসলাম। গোল্ডেন ডাক নিয়ে ফিরতে হয় বাঁহাতি ওপেনারকে। পরের ওভারেই তানজিদ হাসান তামিমকে ফেরান স্টার্ক। বল ব্যাটের কানায় লেগে স্লিপে ওয়েবস্টারের হাতে ক্যাচ দেন ডারউইন টেস্টের সেঞ্চুরিয়ান। ফলে টানা দুই ইনিংসে শূন্য রানে ফিরলেন তানজিদ।
এরপর বাংলাদেশের বিপর্যয় আরও বাড়ান অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। স্টার্কের বল লেগ স্টাম্পের দিকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় প্যাডে আঘাত হানে। আম্পায়ার আউট দিলে রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। তবে আম্পায়ার্স কলের কারণে সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। গোল্ডেন ডাক নিয়ে ফিরতে হয় শান্তকে। স্টার্কের তৃতীয় শিকার হন মুমিনুল হক। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে অযথা ব্যাট বাড়িয়ে গালিতে ক্যাচ দেন তিনি। ১৬ বলে ৯ রান করে ফেরেন বাঁহাতি এই ব্যাটার।
লিটন দাসও স্টার্কের তাণ্ডল থেকে বাঁচতে পারেননি। প্রথমে স্লিপে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান তিনি। ওয়েবস্টার সহজ ক্যাচটি নিতে পারেননি। পরের বলেই অবশ্য লিটনকে এলবিডব্লিউ করে ফেরান স্টার্ক। আম্পায়ার আউট না দিলে রিভিউ নেয় অস্ট্রেলিয়া। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল লেগ স্টাম্পে আঘাত করত। ৪ রানেই ফিরতে হয় লিটনকে।
মাত্র ১২ রানেই ৫ উইকেট হারানো বাংলাদেশের হয়ে এরপর কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে তাদের জুটিও বেশিদূর এগোয়নি। প্যাট কামিন্সের ভেতরে ঢোকা বলে ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে স্টাম্প ভেঙে যায় মুশফিকের। ৪২ বলে ৫ রান করে ফেরেন অভিজ্ঞ ব্যাটার। লাঞ্চের আগে আর কোনো উইকেট না হারিয়ে ৬ উইকেটে ৩৫ রান নিয়ে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। মিরাজের সঙ্গে ১৪ রানের জুটি গড়েন হাসান মাহমুদ।
বিরতির পর অবশ্য দ্রুতই আরও দুই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। প্যাট কামিন্সের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ দেন মিরাজ। ৫১ বলে ১১ রান করেন তিনি। এরপর জশ হ্যাজেলউডের বলে নাথান লায়নের হাতে ক্যাচ দেন হাসান মাহমুদ। ৩৬ বলে ১০ রান করে ফেরেন তিনি। এতে ২৬ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ৩৮ রান। তখনই শঙ্কা জাগে, ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে করা নিজেদের সর্বনিম্ন ৪৩ রানের রেকর্ডও বুঝি ভেঙে যাবে।
তবে শেষ দুই ব্যাটার তাইজুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলাম কিছুটা স্বস্তি দেন বাংলাদেশকে। দশম উইকেটে দুজন মিলে যোগ করেন ইনিংসের সর্বোচ্চ ২৫ রান। এর মধ্যেই নিজেদের সর্বনিম্ন স্কোরের লজ্জা এড়ায় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত শরিফুলকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস গুটিয়ে দেন স্টার্ক। কট বিহাইন্ড হন ২৬ বলে ১৪ রান করা শরিফুল। তাইজুল ২৬ বলে ১১ রানে অপরাজিত থাকেন। ৩৪ ওভারে মাত্র ৬৪ রানে থামে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। স্টার্কের ৬ উইকেটের পাশাপাশি কামিন্স নেন ৩টি এবং হ্যাজলউড একটি উইকেট।
এই ইনিংসে একাধিক বিরল রেকর্ডও হয়েছে। ম্যাচের প্রথম বলেই সাদমানের উইকেট নিয়ে ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনার টেস্ট ইতিহাসে প্রথম বলের প্রথম উইকেটের মালিক হয়েছেন স্টার্ক। একই সঙ্গে এই মাঠের প্রথম টেস্টের প্রথম বলেই আউট হওয়া ব্যাটার হিসেবে রেকর্ডে নাম উঠেছে সাদমানের।
এদিকে মাত্র ২২ বলে ৫ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে সবচেয়ে কম বলে পাঁচ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড গড়েছেন স্টার্ক। সব মিলিয়ে টেস্টে এটি তার ১৯তম পাঁচ উইকেটের ইনিংস।